- নিজস্ব প্রতিবেদক -
"চট্টগ্রাম বন্দরের সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল সালমান এফ রহমান ও শেখ হাসিনার চাচা শেখ হাফিজ কর্তৃক বিপুল অর্থ বিনিময়ের মাধ্যেমে বিদেশী প্রতিষ্ঠান আরএসজেটিকে টার্মিনাল প্রদান"।
চট্টগ্রাম বন্দরের মূল জেটি থেকে ভাটির দিকে ড্রাই ডক এবং বোট ক্লাবের মধ্যবর্তী প্রায় ৩২ একর জায়গায় কর্ণফুলী নদীর তীরে বন্দরের পণ্যে উঠানো নামানোর সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষ ৬০০ মিটার দৈর্ঘ্য একটি আধুনিক টার্মিনাল তৈরির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অর্থায়নে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) নির্মাণের উদ্দ্যেগ গ্রহন করে। সে উদ্দ্যেগের আলোকে ২০১৭ সালে সরকার পতেঙ্গ কন্টেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর এর মাধ্যেমে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যেমে উক্ত টার্মিনালটির জেটির ও ইয়ার্ডের নির্মাণ কাজ শেষ করে। চট্টগ্রাম বন্দর আশা করেছিলো, এ টার্মিনালটি চালু হলে বছরে ৩-৪ লাখ টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা যাবে। এতে করে দেশের আমদানী রপ্তানী কাজে অনেক সহজলভ্য হবে। তথাপি দেশের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে।
কিন্তু দুঃখের বিষয়, টার্মিনালটি সম্পূর্ণরূপে তৈরি হওয়ার পর শেখ হাসিনার চাচা শেখ হাফিজ (এসএইচআর গ্রুপ) ও শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক উপদেষ্টা
দরবেশ খ্যাত সালমান এফ রহমান (বেক্সিমকো গ্রুপ) এর নজরে পড়ে। সেখানে তারা যৌথভাবে ব্যবসা করার পরিকল্পনা করে। যেহেতু বন্দরের হ্যান্ডলিং সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা নেই, সেহেতু তারা একটি বিদেশী প্রতিষ্ঠানের (আরএসজিটি) নাম ব্যবহার করে এই টার্মিনাল পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
তারা গোপনে ঐ বিদেশী প্রতিষ্ঠানের (আরএসজিটি) সাথে নিজেদের শেয়ার ভাগাভাগি করে। পরবর্তীতে দেশের রাজস্বের কথা বাদ দিয়ে তারা নিজেদের ক্ষমতা ব্যবহার করে ঐ বিদেশী প্রতিষ্ঠানের (আরএসজেটি) সাথে বন্দরের চুক্তি করতে বাধ্য করে। যদিও এই চুক্তিতে কি আছে, না আছে আদৌ পর্যন্ত কেউ জানে না (বিশেষ করে সাংবাদিক মহল)। ঐ বিদেশী প্রতিষ্ঠান এখানে কাজ করলে, দেশের রাজস্ব বাহিরে চলে যাবে এবং তাদের শেয়ারহোল্ডার শেখ হাফিজ
ও সালমান এফ রহমান বিদেশে টাকা পাচার করতে সহজতর হবে।
এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, বিদেশী অর্থায়ন একটি দেশের জন্য দরকার, কিন্তু দেশ বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ কোনভাবে কাম্য নই। এতে করে দেশের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত হানে। পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) খালী অবস্থায় থাকাকালীন যদি কোন বিদেশী প্রতিষ্ঠান বা বিদেশী অপারেটর প্রথম পর্যায় হতে বিনিয়োগের মাধ্যেমে টার্মিনালটি নির্মাণ ও পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হতো তাহলে বন্দরের তথা দেশের প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যায় হতো না। তাছাড়া বর্তমানে দেশে আর্ন্তজাতিক মানের অপারেটরগণ রয়েছে। যেখানে দেশের মানবসম্পদকে ব্যবহার হচ্ছে, আন্তজার্তিক মানের দক্ষ জনশক্তি তৈরি হচ্ছে, দেশের রাজস্ব বৃদ্ধি হচ্ছে। তথাপি দেশের অপারেটরদের সুনাম বর্হিবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে। যারা অতি দক্ষতা ও সুনামের সহিত দেশের আমদানী রপ্তানী পন্যে হ্যান্ডলিং করে যাচ্ছেন। দেশের এই অপারেটরদের দ্ধারা চট্টগ্রাম বন্দর হ্যান্ডলিং করে আর্ন্তজাতিক লয়ের্ডস এর তালিকায় সর্বনিম্ন ৫৮ তম স্থান দখল করেছেন।
গোপন সূত্রে যায় যায়, সালমান এফ রহমান এবং শেখ হাসিনার চাচা শেখ হাফিজের শেয়ারকৃত বিদেশী প্রতিষ্ঠান (আরএসজেটি) দ্বারা পরিচালিত উক্ত টার্মিনালটিতে অগ্রাধিকার হিসেবে উক্ত টার্মিনালে জাহাজ বার্থ পাবে। এতে করে বিদেশী অপারেটরদের রাজস্ব বেড়ে যাবে এবং দেশের অর্থ বিদেশে চলে যাবে। তাছাড়া, চট্টগ্রাম বন্দরের জিসিবি, সিসিটি ও এনসিটি টার্মিনালে জাহাজের সংখ্যা কমে যাবে এবং দেশের রাজস্ব আয়ের উপর আঘাত হানবে।
বর্তমানে সারাবিশ্বে (বাংলাদেশ সহ) সকল দেশে বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে। প্রতিটি দেশ সমূহ বর্তমানে নিজের সম্পদ ও জনবল কাজে লাগিয়ে রিজার্ভ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু আমাদের দেশের পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী সরকার নিজের সম্পদ ও জনবল বাদ দিয়ে নিজের কাছের মানুষদের অর্থশালী ও সম্পদশালী করা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা হয় চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যেমে।