২২/৩/২০২৫ তারিখ চট্টগ্রাম অঞ্চলে ফরেস্টার ও ফরেস্ট গার্ডদের সর্বসম্মতিক্রমে ফরেস্টার ও ফরেস্ট গার্ড পদোন্নতি বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি গঠন করা হয়।   আমি এই কমিটিকে সাধুবাদ জানাই। আমি এটাই দেখতে  চেয়েছিলাম। দেরিতে হলেও সেটা আজ বাস্তবায়ন হয়েছে। বনবিভাগের নীতি নির্ধারকদের উপরে কেন আমার এত ক্ষোভ ? কেউ কি জানতে চেয়েছেন ?  আমি কালাম বন বিভাগে দীর্ঘ ৩৮ বছর শ্রম দিয়েছি, শরীরের ঘাম জড়িয়েছি, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করেছি কিন্তু দুঃখের বিষয় একই পদে রিক্ত হস্তে বিনা পদোন্নতিতে অবসরে আসতে হয়েছে। কি অপরাধ ছিল আমার ?

কে দিবে এর জবাব ? কেন পদোন্নতি হলো না ?  আমি আমার ছেলে মেয়ে পরিবার-পরিজনের প্রশ্নের জবাব দিতে পারি না! শুধু নিরবে নিঃশব্দে দু নয়নে অশ্রু  গড়িয়ে পড়ে! মনের ক্ষোভ  মনে পাথর চাপা দিয়ে  যখন বনবিভাগের অনিয়ম আর স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ কিছু লিখতে যাই তখনই আমার শুভাকাঙ্ক্ষী, সহকর্মী ও গুণীজনরা চিল্লাইতে থাকেন ভাই ডিলেট করেন ডিলেট করেন! আমি কালাম কারো রক্ত চক্ষুকে ভয় পাই না, আমি একবার কাউকে সালাম দিলে সে যদি সালামের জবাব না দেয় আর কোনদিন তাকে আমি সালাম দেই না সে যে কেউ হোক না কেন যত বড় অফিসারই হোক না কেন। অনেকেই টিটকারি মারেন ভাই পোস্ট করলেন আবার পোস্ট ডিলেট করে দিলেন কিসের স্বার্থে ? অফিসারদের ভয় দেখিয়ে স্বার্থ উদ্ধার করে নিচ্ছেন! যারা এই সমস্ত কমেন্ট করে আমাকে উস্কে দিচ্ছেন  তাদের বলতে চাই আমি কালাম প্রতিবাদী তবে বেয়াদব নই। গুণীজনদের বিশেষ অনুরোধে তাদের সম্মান রক্ষার্থে অনেক সময় ডিলেট করি এটা সত্যি। কিন্তু আমার মনে প্রতিশোধের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে আর ভাবতে থাকি কবে হবে এই বৈষম্যের অবসান।  বন বিভাগের সকলের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য দূর হলে আমি আত্মতৃপ্তি পাবো  মনে শান্তি পাবো। 

: কি আজব বন বিভাগ:
বিভিন্ন প্রকল্পে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী বন সংরক্ষকগন কেউ সর্বোচ্চ ডিসিএফ আবার কেউ বা এসিএফ হিসাবে অবসরে যায়। অথচ তাদের অধীনে চাকুরী করা বিসিএস (ক্যাডার) এসিএফগন কেউ এখন সিসিএফ,  কেউ ডিসিসিএফ, কেউ সিএফ আর অন্যরা ডিসিএফ। প্রকল্পের সহকারী বন সংরক্ষক গন এক বুক জ্বালা  নিয়ে  চাকুরী করে যাচ্ছে। ১৯৯৩ সালে নিয়োগ প্রাপ্ত  প্রকল্পের সহকারী বন সংরক্ষকগনদের ২০০৩ সালে  ক্যাডারভুক্ত করে কাউকে কাউকে  বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিসিএফ) চলতি দায়িত্ব প্রদান করা হয়। বাস সেখানেই ইতি!  কি নোংরা রাজনীতি চলে বন বিভাগে।  ২০০৩ সালে ২২ তম বিসিএস বন ক্যাডারদের নিয়োগ। অপরদিকে ২০০৩ সালে নন ক্যাডার সহকারী বন সংরক্ষকদের ক্যাডার ভুক্ত করা। বিষয়টি কি দাড়ালো ? কত বড় বৈষম্য দেখেছেন ?  ২২ তম বিসিএস বন ক্যাডারদেরকে দিয়ে স্থান পূরন করে ষোলকলা পূর্ন হওয়ার পর ননক্যাডারদের ক্যাডারভুক্ত করা হয়। সব ক্যাডারাই কিন্তু সিসিএফ, ডিসিসিএফ,সিএফ হিসাবে দায়িত্ব পালন করে গেছে। ২০০৩ সালে ক্যাডার ভুক্ত হওয়া সহকারি বন সংরক্ষকদের বেলায় এত বৈষম্য কেন ?  সবশেষে  মোহাম্মদ সফিউল আলম চৌধুরী ননক্যাডারদের ক্যাডারভুক্ত করায়। আবার এই সিসিএফ সাহেব সরাসরি ফরেস্ট রেঞ্জার নিয়োগের ব্যবস্থা করে মামলার জটিলতা তৈরী করে ফরেস্টাররা যাতে ফরেস্ট রেঞ্জার না হতে পারে তার জন্য ফরেস্ট রেঞ্জার নিয়োগের ব্যবস্থা করেন। পূর্ববর্তী সিসিএফ মোঃ ইউনুস আলী সাহেব ২০১২ সালে শুধুমাত্র ডিপ্লোমা ফরেস্টাদের ১৭৪ জনের খসড়া গ্রেডেশন তালিকা প্রস্তুত  করেন। সেই তালিকা বাতিল না করে দীর্ঘ ৪ বছর পর প্রকল্পের ফরেস্টারসহ ৭৯৪ জনের খসড়া গ্রেডেশন তালিকা প্রস্তুত করেন। সেই তালিকায় সকল ডিপ্লোমা ফরেস্টারদের নিম্নে প্রকল্পের ফরেস্টারদের স্হান হয়। এমনকি ২০১৪ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত ফরেস্টারাও প্রকল্পের ফরেস্টারদের আগে স্থান পায়। শুরু হয় মামলার প্রক্রিয়া। যার যার অধিকার রক্ষায় সকলেই আদালতের দ্বারস্থ হয়। আর এই সুযোগে কর্তৃপক্ষ সরাসরি ফরেস্ট রেঞ্জার নিয়োগ করে ফরেস্টারা যাতে ফরেস্ট রেঞ্জার এর উপরে পদোন্নতি না হতে পারে সেই খেলা খেলতে থাকে। 
খেলা এখনো চলমান....!
লক্ষনীয়: ২০১২ সালের ফরেস্টারদের খসড়া গ্রেডেশন তালিকায় ডিপ্লোমা ফরেস্টার ব্যতিত কেউ ঐ তালিকায় স্থান পায়নি। কিন্তু ২০১৬ সালের গ্রেডেশন তালিকায় ৫২ নং ক্রমিকে বর্নিত মোঃ আতাউর রহমান লস্কর স্থান পায়। মন্তব্য কলামে লেখা হয় ১২/০৪/২০০১  সালে নিয়মিত করা হয়েছে।

এখন প্রশ্ন:
১। যদি ১২/০৪/২০০১ তারিখে তার নিয়মিত করা হয় তবে কেন ২০১২ সালের গ্রেডেশন তালিকায় তার নাম এলো না?
২। অন্যান্য ফরেস্টারদের কেন উক্ত তারিখে নিয়মিতকরন করা হয়নি? যদি উক্ত সময়ে সকল প্রকল্পের ফরেস্টারদের নিয়মিত করা হতো তবে ২০০৪, ২০০৫ ও ২০১৪ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত সকল ডিপ্লোমা ফরেস্টারের আগে তাদের জৈষ্ঠ্যতা হতো আর কোন মামলার প্রশ্নই আসতো না। ধারাবাহিকভাবে সকলের পদোন্নতি হতো। সরাসরি ফরেস্ট রেঞ্জার নিয়োগের প্রশ্নই আসতো না। যার যার যোগ্যতা অনুসারে উপরের পদে পদোন্নতি পেতো। 
তাই উক্ত গ্রেডেশন তালিকা প্রনয়নকারী ও কমিটি'র সদস্যগণকে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। তারা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন নাই এবং ফরেস্টারদের দাবিয়ে  রাখার নোংরা ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।

সব জায়গায় ছলছাতুড়ী। খোঁজ নিয়ে দেখেন সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক মোঃ ইউনুস আলী সাহেবের   আস্থাভাজন, সাবেক বনমন্ত্রী সাজেদা চৌধুরীর তথাকথিত জামাই, বাড়ি গোপালগঞ্জ   হওয়ার কারনে এটা সম্ভব হয়েছে। কারন তাকে রাঙ্গামাটি অঞ্চল হতে বদলীর নীতিমালা উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম অঞ্চল এ বদলী ও চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের ফৌজদারহাট বিট কাম চেক স্টেশনে দীর্ঘ প্রায় ৩ বছর স্টেশন কর্মকর্তা হিসাবে রাখা হয়। পরবর্তীতে মোহাম্মদ সফিউল আলম চৌধুরী তার আস্থাভাজন মোঃ আরিফুল ইসলামকে বালুখালী বিট হতে অকালীন বদলী দেখিয়ে ফৌজদারহাট বিট কাম চেক স্টেশনে স্টেশন কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনিও তার পূর্বসূরীর ন্যায় দীর্ঘ ২ বছর ৬ মাসের অধীক সময় স্টেশন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করার পর প্রাইজ পোষ্টিং হিসাবে পাল্পউড ডিভিশন, বান্দরবান এ বদলী হন এবং ওখানে একটি রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্ব হাতিয়ে নেন। আতাউর রহমান লস্কর ফরেস্টার চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে প্রশিক্ষণে গেলে প্রশিক্ষণ শেষে পুনরায় রাঙ্গামাটি অঞ্চলে নিয়োগ। যা ছিল সম্পূর্ণ স্বজন প্রীতি ও বদলির নীতিমালা বহির্ভূত। 
বন বিভাগে সব কারিশমা চলে। মোহাম্মদ সফিউল আলম চৌধুরী'র সাথে মতানৈক্যর কারনে আ.ন.ম আব্দুল ওয়াদুদ বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে তার সময়কাল শেষ হওয়ার পূর্বে মৌলভিবাজার বদলী করা হয় এবং আ.ন.ম আবদুল ওয়াদুদ এর পক্ষালম্বন করার দায়ে বাবুল ও বেলাল ফরেস্ট গার্ডকে প্রথমে বরিশাল সার্কেল এ বদলী ও পরে তাদেরকে চাকুরীচ্যুত করা হয়। বন বিভাগের নীতি নির্ধারকদের কাছে প্রশ্ন  আপনাদের বুকে হাত রেখে বলেন আপনারা কি অধঃস্তনদের প্রতি সংবেদনশীল! মোটেই না। আপনারা কিছু দালাল, চাটুকার, তোষামোদকারী, চামচাদের আপনাদের হাতের মুঠোয় রেখে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
কিভাবে ফরেস্টার আর ফরেস্ট গার্ডদের দাবিয়ে  রাখা যায়। ফরেস্ট গার্ড দের সাথে কি বেইমানি করলেন ?  ফরেস্ট গার্ডদের একই দিনে স্থায়ীকরণ নিয়মিত করণ করে সিনিয়রদের জুনিয়র জুনিয়রদের সিনিয়র বানিয়ে  ফরেস্ট গার্ড আর ফরেস্ট গার্ডদের মধ্যে প্যাচ লাগিয়ে দিলেন!  মামলার পরামর্শ দিয়ে ভাইয়ে ভাইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী সৃষ্টি করলেন। পদোন্নতির  গিট্টু খুলতে না পেরে আমার মত অনেকেই পদোন্নতিবিহীন বাড়ি চলে যাচ্ছে। আপনারা কেন চেয়ারে বসে আছেন। কেন আপনারা শত ঝু্ঁকি থাকার পরও সকলের ঝুঁকিভাতা, রেশন আর ডিপ্লোমা ফরেস্টারদের ডিপ্লোমা স্কেল আদালতের রায় থাকার পরও বাস্তবায়নে আপনাদের অনীহা।  ফরেস্ট রেঞ্জারদের পক্ষ হয়ে আপনারা আদালতের বারান্দায় দৌড়াদৌড়ি করতে পারেন। আর যত বাধা-বিপত্তি ফরেস্টার আর ফরেস্ট গার্ডদের জন্য।সত্যিকার্থে আপনারা কখনও চান না মাঠ পর্যায়ের বন উৎপাদনকারী, বনভূমি, বনজ সম্পদ রক্ষাকারী ফরেস্টার ও ফরেস্ট গার্ডদের  উন্নয়ন হউক। প্রত্যেকটি কাজের জবাবদিহিতা আছে। অন্যের অধিকার হননকারীদের ধ্বংস অনিবার্য। আপনারা সম্মান দেওয়াটাকে  দূর্বলতা ভাবেন। যখন অসম্মান করা শুরু করবে বিদ্রোহ করে বসবে তখন সামাল দিতে পারবেন তো! তাই কোন খোঁড়া যুক্তি না দেখিয়ে তাদের দাবীগুলো বাস্তবায়ন এ আন্তরিক হউন। বন বিভাগের ভারসাম্য রক্ষা করুন। বন বিভাগের ভেঙ্গে পড়া চেইন অব কমান্ড পুনরুদ্ধার করুন। আর ফরেস্টার, ফরেস্ট গার্ড ভাইদের বলছি আপনারা সম্মিলিত ঐক্য পরিষদ গড়ে তুলেন। শান্তি পূর্ন আন্দোলনের ডাক দিন। এখনই সময় ঐক্য গড়ার। 
চলবে:
এরপর নীতিমালা উপেক্ষা করে বদলী বানিজ্য। কে কোন সার্কেলে কত দিন, কে কত বার স্টেশন, শহর রেঞ্জ এ চাকুরী করেছেন।  তথ্য দিয়ে আমাকে সহযোগিতা করুন।  আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই আপনাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক এতেই আমি আত্মতৃপ্তি পাবো।
লেখক: সাবেক বন কর্মকর্তা