পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমানের পরিবারের উপর স্থানীয় আওয়ামীলীগ-যুবলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে অমানবিক নির্যাতন নিপীড়ন ও পাশবিকতার অভিযোগ উঠেছে।
২০১৮ সালের দিকে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে দুটি মিথ্যা রাজনৈতিক মামলায় আসামি করে। এসময় তিনি গ্রেফতার এড়াতে পলাতক থাকাকালে তার বাড়িতে ঢুকে স্থানীয় আওয়ামীলীগ-যুবলীগের নেতারা তার স্ত্রী ও সন্তানকে অস্ত্রের মুখে জিন্মি করে ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে। ওই ভিডিও ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে দুই বছর ধরে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও উজানটিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম চৌধুরীর ইন্ধনে তার সাঙ্গপাঙ্গরা।
আজ ১৩ এপ্রিল (সোমবার) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিচন সাংবাদিক ইউনিয়ন মিলাতায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন মিজানুর রহমানের স্ত্রী তৈয়বা জান্নাত। এসময় তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি বলেন, আমাদের কোন অপরাধ নেই। আমার স্বামী জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় আমার স্বামীকে একের পর এক মিথ্যা রাজনৈতিক মামলা দিয়ে ঘর ছাড়া করে আমার ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিন্মি করে আমার উপর পাষবিক নির্যাতন চালায়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তৈয়বা জান্নাতের বলেন, ২০০৯ সালে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ ক্ষমাতায় আসার পর আমার স্বামী মিজানুর রহমানকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা একাধিক রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় আসামি করেন। পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও উজানটিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম চৌধুরী ও যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ আলমগীরের আক্রোশের শিকার জন। নানা নির্যাতন ও নিপীড়নের কারণে আমার স্বামী এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন।
তৈয়বা জান্নাতে অভিযোগ, ২০১৮ সালের অবৈধ সংসদ নির্বাচনের সময় আমার স্বামীর বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দেয় আওয়ামীলীগ। ২০২২ সালে শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সাইদুল ইসলাম কাফি, মোঃ আলমগীর আমার স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগে রাতের অন্ধকারে আমার ঘরে প্রবেশ করে আমাদের অবুঝ শিশু ও আমাকে অস্ত্র ঠেকিয়ে জানে মারার হুমকি দেয়। আমাকে জোর করে ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে। ওই ঘটনা কাউকে প্রকাশ করলে আমার স্বামী, সন্তানকে জানে মেরে ফেলবে এবং উক্ত ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। স্বামী এবং সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে উক্ত ঘটনা আমি চেপে যায়। পরে ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করার হুমকি ধামকি দিয়ে তারপর থেকে প্রায় সময় সাইদুল ইসলাম কাফি, রিয়াদ ও মোঃ আলমগীর আমাকে দুই বছর যাবত নিয়মিত ধর্ষণ করে যায়। পরে আমি শারীরিক ও মানষিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি এবং আমার স্বামীকে বিষয়গুলো খুলে বলি।
তিনি বলেন, গত ৫ আগষ্টের পর দেশের পট পরিবর্তন হলে ওই সন্ত্রাসীরা কিছু দিনের জন্য এলাকা ছেড়ে যায়। বর্তমানে তারা ধর্ষনের ধারণকৃত ভিডিও প্রচার করবে বলে হুমকি প্রদান করছে।
সংবাদ সম্মেলনে তৈয়বা জান্নাতের স্বামী মিজানুর রহমান বলেন, আমরা বিষয়গুলো নিয়ে সেসময় স্থানীয় থানার সহযোগিতা চেয়েছিলাম। উল্টো তারা আমার পরিবারকে নানা হয়রানি করে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও এসব অপরাধী এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমাদের নানা ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে।
তিনি বলেন, সহসা ধর্ষণেরন বিষয়ে আমরা আদালতের মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।