শেরে মিল্লাত কনফারেন্সে বক্তারা বলেন, শাইখুল হাদিস আল্লামা মুফতি ওবাইদুল হক নঈমী নিজে শুধু আলেমে বা আমল ছিলেননা বরং ইসলামের মূলধারা সুন্নীয়াতের বিশুদ্ধ আকিদায় মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে তিনি  আজীবন আপষহীন সংগ্রাম করে গেছেন। সত্য উচ্চারণে তিনি ছিলেন নির্ভীক। ইসলামের নামে-বেনামে বাতিল অপশক্তির বিরুদ্ধে তিনি যেমন ছিলেন সোচ্চার- প্রতিবাদী আতংকস্বরূপ তেমনি তিনি সিলসিলায়ে আলীয়া কাদেরিয়া ও আপন পীর-মুরশিদ গাউসে জামান তৈয়্যব শাহ (রহ:), হুজুর কিবলা তাহের শাহ, পীরে বাঙাল সাবির শাহ মুদ্দাযিল্লুহুমাল আলীর প্রতি ফানা-ফিশ শায়খ তথা নিবেদিতপ্রাণ ওয়াফাদার এক স্বার্থক পূরুষ ছিলেন। বক্তারা আরো বলেন, এশিয়াখ্যাত দ্বীনি প্রতিষ্ঠান জামেয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া আলীয়ার শাইখুল হাদিস ওয়াল ফিকহ পদে তিনি আজীবন শিক্ষাদানের মাধ্যমে অগণিত শিক্ষার্থীদের খোদা- রাসুল (দ.) ও অলিয়াল্লাহ প্রেমিক মানবিক জ্ঞানময় মানুষ তৈরি করেন যারা আজ বিশ্বব্যাপী সুন্নীয়াতের খেদমতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পবিত্র কুরআন-হাদীসের সুক্ষাতিসুক্ষ ও রহস্যময় নির্দেশনা,  শিক্ষা-দর্শনকে রাসুলপ্রেমিক বৈষম্যহীন সমাজ কায়েমের অনন্য আদর্শ রুপে চিরকাল পথহারা মানুষকে সত্যের দিশা দেবে মন্তব্য করে বক্তারা শেরে মিল্লাত নঈমী হুজুরের জীবন-কর্ম চর্চার আহবান জানান। 
শেরে মিল্লাত আল্লামা মুফতি ওবাইদুল হক নঈমী (রহ.)'র ৫ম ওফাত বার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত শেরে মিল্লাত কনফারেন্সে বক্তারা উপরোক্ত আহবান জানান। শেরে মিল্লাত ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ'র ব্যবস্থাপনায় গতকাল বিকেলে নগরীর হামজারবাগস্থ সেন্ট্রাল হলে আহলে সুন্নাত সম্মেলন সংস্থা (ওএসি) বাংলাদেশ'র চেয়ারম্যান আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ সোলায়মান আনসারীর সভাপতিত্বে এ কনফারেন্স উদ্ভোধকের বক্তব্য রাখেন, জামেয়ার সাবেক অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি সৈয়্যদ অসিয়র রহমান আল-কাদেরী। এতে প্রধান অতিথি ও প্রধান আলোচক ছিলেন, আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নীয়ার সেক্রেটারি জেনারেল আলহাজ্ব মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জমাআ'ত বাংলাদেশ'র চেয়ারম্যান আল্লামা কাজী মুহাম্মদ মঈনুদ্দিন আশরাফী। বিশেষ অতিথি ও আলোচক ছিলেন, আনজুমান রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক আল্লামা এম.এ. মান্নান, আনজুমান ট্রাস্ট'র জয়েন্ট সেক্রেটারি আলহাজ্ব মুহাম্মদ সিরাজুল হক, আনজুমান ট্রাস্ট'র মুখপাত্র এড. মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া আলীয়া গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান প্রফেসর আবুল মহসিন ইয়াহিয়া খান, জামেয়ার অধ্যক্ষ আল্লামা হাফেজ কাজী আব্দুল আলীম রিজভী, উপাধ্যক্ষ মাওলানা ড. আ.ত.ম. লিয়াকত আলী, প্রধান মুফাসসির আল্লামা সালেকুর রহমান আল-কাদেরি, মুহাদ্দিস আল্লামা হাফেজ আশরাফুজ্জামান আল-কাদেরী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট'র মহাসচিব স.উ.ম. আব্দুস সামাদ, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ'র সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব পেয়ার মুহাম্মদ, সাবেক মহাসচিব আলহাজ্ব শাহজাদ ইবনে দিদার, অধ্যাপক মাওলানা সৈয়দ জালাল উদ্দীন আল আযহারী, উপাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল আজিজ আনোয়ারী, উপাধ্যক্ষ ড. মাওলানা আব্দুল হালিম কাদেরী, অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল কালাম আমিরী, মুহাদ্দিস আল্লামা শহীদুল হক হোসাইনী, পীরে ত্বরিকত মাওলানা গোলামুর রহমান আশরাফ শাহ, আনজুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউসে মাইজভান্ডারি (শাহ এমদাদিয়া)'র মুখপাত্র আলহাজ্ব শাকিল আহমদ, মাওলানা নূর মুহাম্মদ আল-কাদেরী, এম. সোলাইমান ফরিদ, এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অধ্যক্ষ মাওলানা ড. মুহাম্মদ সরোয়ার উদ্দিন, অধ্যাপক আবু তালেব বেলাল, মাওলানা আবুল হাসেম শাহ, গোলাম মোস্তফা মুহাম্মদ নূরুন নবী, মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস আল-কাদেরী, আল্লামা আবুল হাসান মুহাম্মদ উমাইর রেজভী, অধ্যাপক ড. মাওলানা মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন, মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াকুব হোসাইন, মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ ইউনুস রেজভী, মাওলানা মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম আনোয়ারী, মাস্টার আবুল হোসাইন, মাওলানা মুহাম্মদ ইমরান হাসান আল-কাদেরী, মাওলানা সেকান্দর হোসাইন আল-কাদেরী, মাওলানা ইকবাল হোসাইন আল-কাদেরী, মাওলানা মোখতার আহমদ রজভী, মাওলানা সৈয়দ নূর মুহাম্মদ আল কাদেরী, মাওলানা সৈয়দ আবু নওশাদ নঈমী, মাওলানা করিম উদ্দিন নূরী, মুহাম্মদ তৌহিদ করিম, মাওলানা আবু নাছের মুহাম্মদ তৈয়্যব আলী, মাওলানা ইয়াছিন হোসাইন হায়দারী, আলহাজ শেখ মুহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, মাওলানা ওবায়দুল হক হক্কানী, মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ বদরী, মাওলানা সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম চিশতি, আলহাজ্ব মুহাম্মদ হোসেন খোকন, মুহাম্মদ আরিফুর রহমান প্রমুখ। মুহাম্মদ এরশাদ খতিবীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত ও ধন্যবাদ বক্তব্য রাখেন- কনফারেন্স প্রস্তুতি কমিটির পক্ষে মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মালেক এবং হুজুরের পরিবারের পক্ষে মাওলানা মুহাম্মদ হামেদ রেযা নঈমী ও মাওলানা মুহাম্মদ কাসেম রেযা নঈমী। কনফারেন্স শেষে  মিলাদ-কেয়াম পরিচালনা করেন, জামেয়ার শিক্ষক মাওলানা নঈমুল হক নঈমী। কনফারেন্সে হুজুরের শানে স্বরচিত উর্দু - বাংলা মানকবাত কবিতা পাঠ করেন, মুহাম্মদ মোখতার সাঈদী রেজভী, মুহাম্মদ আবদুল মান্নান ও মাওলানা মুহাম্মদ সেলিম রিয়াদ হক্কানী প্রমুখ।
বাদে জোহর থেকে আলমগীর খানকাহ শরীফে পবিত্র খতমে কোরআন, খতমে বোখারী, খতমে মাজমুয়ায়ে সালাওয়াত-ই রাসুল (দ.), খতমে গাউসিয়া, বাদে আসর খানকাহ শরীফ সংলগ্ন হুজুরের মাজার শরীফে গিলাফ ছড়ানো, পুষ্পার্ঘ অর্পণ, জেয়ারত ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। রাত ১০.৪৫টায় সভাপতির সমাপনী ভাষণ, মুনাজাত ও নামাজে এশা আদায়ান্তে তাবরুক বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।