বাস, মিনিবাস ও ট্রাক-কাভার্ডভ্যানের ‘ইকোনমিক লাইফ’ বা অর্থনৈতিক আয়ু নির্ধারণের সরকারি সিদ্ধান্তকে "মরার উপর খড়ার ঘা" হিসেবে অভিহিত করেছে বৃহত্তর চট্টগ্রাম গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ফেডারেশন।

সংগঠনের সদস্য সচিব মোঃ হুমায়ুন কবীর সোহেল গতকাল (সোমবার) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের আব্দুল খালেক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, "ডলারের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও যন্ত্রাংশের অতিরিক্ত ব্যয়ের ফলে মাস শেষে পরিবহন মালিকদের হাতে কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। এর মধ্যে আবার ২০-২৫ বছরের ইকোনমিক লাইফ নির্ধারণ করা মানেই ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়া।"

তিনি জানান, ১৯ জুন ঘোষিত নতুন প্রজ্ঞাপনে বাস-মিনিবাসের আয়ু ২০ বছর এবং ট্রাক-কাভার্ডভ্যানের আয়ু ২৫ বছর নির্ধারণ করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন পরিবহন মালিকরা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়, যেমন ,ঢাকার বাইরে নতুন ইকোনমিক লাইফ প্রজ্ঞাপন স্থগিত করা ,গাড়ির আয়ু ও নীতিমালা নির্ধারণে বিভাগীয় মালিক প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা ,বাণিজ্যিক মোটরযানের অগ্রিম আয়কর ও বিআরটিএ ফি আগের মতো বহাল রাখা, প্রাইভেট কোম্পানির কাছে ফিটনেস পরীক্ষা হস্তান্তরের বিরোধিতা,বিআরটিএ’র আধুনিকায়ন এবং লজিস্টিক সহায়তা জেলায় জেলায় সম্প্রসারণ, ২০১৮ সালের ‘কালো আইন’ সংশোধন,অঞ্চলভিত্তিক বাস্তবতা বিবেচনায় নীতিনির্ধারণ

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, যদি এই সিদ্ধান্ত বাতিল বা স্থগিত না করা হয়, তবে গণ ও পণ্য পরিবহন খাতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হলে মালিকদের কিছুই করার থাকবে না।

পরিশেষে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, সব স্টেকহোল্ডার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শ করে বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে—অন্যথায় এ সিদ্ধান্ত দেশে সড়ক পরিবহন খাতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে পারে।
 উপাস্থিত ছিলেন সংগঠনের আহ্বায়ক মোঃ মোরশেদুল আলম কাদেরী, সড়ক পরিবহণের শীর্ষ নেতা  একরামুল করিম চৌধুরী , শওকত আলী ,কমিশনার নাজিম উদ্দিন আহমেদ,মোঃ আজিজুল হক, মোঃ সৈয়দ হোসেন, মোঃ কামাল উদ্দীন, মোস্তাফিজ, অলি আহেমদসহ মালিক ও শ্রমিক নেতা।