চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের অধীন পদুয়া রেঞ্জে কর্মরত ফরেস্টার মামুন মিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠার পর বন অধিদপ্তর কর্তৃক তাকে কোস্টাল (বরিশাল) অঞ্চলে বদলি করা হয়। তবে আদেশ জারির দীর্ঘ সময় পরেও তিনি আগের কর্মস্থলেই বহাল আছেন।
গাছ পাচার বন্ধে পদুয়া ফরেস্ট চেক ষ্টেশন থাকলেও বন উজাড় করে কাঠ পাচার বন্ধ হচ্ছে না।  বনের গাছ কাটা, জোত বিক্রি ও পারমিট সরকারিভাবে নিষিদ্ধ থাকলেও টাকার বিনিময়ে পাচারে সহযোগিতা করছেন এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা গাছের গাড়ি থেকে বিভিন্ন হারে চাঁদা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে খোদ ফরেস্ট চেক স্টেশনের কর্মকর্তা ও রেঞ্জ কর্মকর্তা ফরেস্টার মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে। 

ঘনিষ্ঠতা বন সংরক্ষক মোল্লা রেজাউলের সঙ্গে, তদবির সচিবালয় পর্যন্ত

বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, মামুন মিয়া চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মোল্লা রেজাউল করিমের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। তিনি বন বিভাগের আলোচিত ‘চাঁদা সমন্বয়কারী বলয়’-এর অন্যতম সক্রিয় সদস্য। এই বলয়ের প্রভাবে বদলি আদেশ ঠেকাতে সচিবালয় পর্যন্ত তদবির এবং উচ্চ পর্যায়ে ‘মনস্তাত্ত্বিক চাপ’ সৃষ্টির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চাঁদাবাজি ও কাঠ পাচারের অভিযোগ

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ফরেস্টার মামুন মিয়ার সময়ে রিজার্ভ বনভূমি থেকে অবৈধভাবে গাছ কাটা, স’মিলে কাঠ পাচার, বন মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের মতো ঘটনা ছিল নিত্যদিনের চিত্র। এসব অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে উঠে এলেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বদলি না মানা সরকারি বিধিমালার লঙ্ঘন

সরকারি চাকরি আচরণ বিধিমালার ৩(খ) ও ৫ ধারা অনুযায়ী, বদলি আদেশ অমান্য করা গুরুতর অসদাচরণ। অথচ মামুন মিয়ার বদলি ঠেকাতে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন নিজেই সুপারিশ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “অন্য কেউ আসলে, সে চলে যাবে।”

প্রশাসনিক দুর্বলতা না কি অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ?

পরিবেশবাদীরা বলছেন, “যেখানে বদলি হয় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতীক, সেখানে প্রভাব খাটিয়ে সুবিধাজনক পোস্টিং ধরে রাখা পুরো কাঠামোকেই দুর্বল করে দিচ্ছে।” তাদের প্রশ্ন—একজন ফরেস্টারের বদলি ঠেকাতে পুরো ব্যবস্থাপনা যদি নীরব থাকে, তবে কি বন বিভাগ চালায় প্রকৃত নীতিনির্ধারকরা, না কি কোনো নেপথ্যের অদৃশ্য শক্তি?

মামুন মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হয়নি।