চট্টগ্রাম শহরের পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার “জুলাই স্মৃতি উদ্যান” (সাবেক জাতিসংঘ পার্ক)-এর ১১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে সৌন্দর্যবর্ধন কাজ শেষ হলেও এক বছরের মধ্যে দেখা দিয়েছে ভাঙচুর ও নানা গড়বড়। পার্কের দেয়ালে ফাটল, আরসিসি বসার টুলে ফাটল ও সংখ্যা কম, নষ্ট হওয়া টাইলস, অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে প্রকল্পের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
উচ্চমূল্যেও মানহীন নির্মাণ:
>: ৩৫৩.৫৫ মিটার বাউন্ডারি ওয়ালের জন্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, অর্থাৎ প্রতি মিটারে প্রায় ৬৯ হাজার টাকা। প্রকৌশলীদের মতে, সঠিক বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা।
>: ৪৪টি আরসিসি টুল বানাতে দেখানো হয়েছে ৩৫.৯২ লাখ টাকা, প্রতিটি টুলে খরচ ৮১,৬০০ টাকা। প্রকৃত মূল্য এর এক-চতুর্থাংশেরও কম হওয়া উচিত।
>: একটি ফাউন্টেন লাইটের জন্য খরচ দেখানো হয়েছে ২ লাখ টাকা, যা বাজারে ৪০-৫০ হাজারে পাওয়া যায়।
নির্মাণে অস্বাভাবিক খরচের উদাহরণ আরও রয়েছে:
>: একটি ডিপ টিউবওয়েল বসাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১৬.৮৭ লাখ টাকা।
>; জলাধার ও ঝরনা নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৫ লাখ টাকা।
>: শিশুদের খেলার ৫টি সরঞ্জাম কিনতে ১৯.৩০ লাখ টাকা।
>: পার্কে গাছ লাগানোর খাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়:
বাউন্ডারি ওয়ালে ফাটল, টুল ও ওয়াকওয়ের নিচে জমে থাকা পানি, ঝরনায় বিবর্ণ টাইলস, এবং বেশ কিছু স্থানে ফুসকুড়ি ও ভাঙন। অনেক জায়গায় আসবাবপত্র অনুপস্থিত।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই অনিয়ম মূলত নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী, প্রয়োজনের তুলনায় কম সিমেন্ট, এবং লবণাক্ত মাটি-বালি ব্যবহারের ফল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের ‘সিন্ডিকেট’ এর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে।
পদক্ষেপহীন প্রশাসন:
এ নিয়ে জানতে চাইলে প্রকল্পের তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী রাজীব গুহর মোবাইলে বারবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। বর্তমানে দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী কামরুল ইসলামও সীমিত স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেন, “ফাটল ও ত্রুটিগুলো আমরা দেখেছি, সমাধান করছি।”
২০২২ সালে অনুমোদিত এ প্রকল্পের কাজ শেষ হয় ২০২৪ সালে। সরকারি কাগজে ‘আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন’ বলে দাবি করা হলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এটি ছিল একটি উচ্চমূল্যে নিম্নমানের নির্মাণ প্রকল্প—যা দুর্নীতির আরেকটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে।