চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের ক্যাশিয়ার খ্যাত রেঞ্জার মালেককে  একমাস আগে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ থেকে লামা রেঞ্জে বদলী করা হয়। তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে তদবির করছেন চট্টগ্রামে থাকতে। বাংলাদেশ বন বিভাগের মধুখ্যাত চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ । চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে কেউ একবার যোগদান করলে আর অন্য জায়গায় যেতে চান না।  চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে সংযুক্ত হওয়া মানে কোটিপতি হওয়া। চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে  বনের গাছ নিধন, পাহাড় নিধন ও লুটপাট। রেঞ্জার মালেক উত্তর বন বিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা ছিলেন, তার দুর্নীতি নিয়ে সকালের চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন পত্রিকার সংবাদ প্রকাশের পর তাকে কৌশলে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে উত্তর বন বিভাগের সদর সার্ভে রেঞ্জ কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেওয়া হয় ।  রেঞ্জার মালেক বদলি আদেশকে অগ্রাহ্য করে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে অবস্থান করছেন।


রেঞ্জার মালেকের দুর্নীতি নিয়ে সকালের চট্টগ্রামে প্রকাশিত সংবাদগুলো.....

২০২৫-০১-২২  বিশেষ প্রতিবেদক
রেঞ্জার মালেকের সহযোগিতায় ইসকনের অবৈধ ভবন নির্মাণ  

 

চট্টগ্রামের প্রবর্তক সংঘের পাহাড় নিয়ে বন বিভাগের সাথে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় আইন অমান্য করেন জঙ্গি সংগঠন ইসকন অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন।

অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ইসকনকে এই ভবন নির্মাণের সহযোগিতা করেছেন উত্তর বনবিভাগের মামলা পরিচালক রেঞ্জার আব্দুল মালেক। শোনা যায়, এই ভবন নির্মাণের সহযোগিতা করার কারণে ইসকন রেঞ্জার আব্দুল মালেককে অর্ধ কোটি টাকা প্রদান করেন। বন বিভাগের কর্মকর্তা হয়ে বনের স্বার্থ রক্ষা না করে  অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ইসকন কে বহুতল ভবন নির্মাণে সহযোগিতা করেন রেঞ্জার আব্দুল মালেক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উত্তর বন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, উপ বন সংরক্ষক এস এম কায়চারের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে রেঞ্জার মালেক এইসব অপকর্ম করেছেন।

 

 জঙ্গি সংগঠন ইসকন বনের গাছ কেটে কিভাবে  আবাসিক ভবন নির্মাণ করছে এই বিষয়ে জানতে রেঞ্জার আব্দুল মালেকের কাছে কয়েকবার ফোন করলে তিনি ফোন ধরেননি।

 

সহকারী বন সংরক্ষক, সদর ও চট্টগ্রাম মো: জয়নাল আবেদীন সকালের চট্রগ্রামকে বলেন, প্রবর্তক সংঘের সাথে বনবিভাগের মামলা চলমান। ইসকন জোরপূর্বক এই ভবন নির্মাণ করছে আদালতকে অমান্য করে। রেঞ্জার আব্দুল মালেকের অনৈতিক সুবিধা নেওয়া প্রসঙ্গে জয়নাল আবেদীন বলেন এই মামলা নিয়ে রেঞ্জার মালেক অনেক কষ্ট করেছেন, হয়তো কিছু সুযোগ সুবিধা নিতে পারেন তবে প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এফডি লেখা পোশাক পড়ে ফরেষ্ট রেঞ্জার মালেকের সারারাত চাঁদাবাজী

২০২৪-০৮-২২  বিশেষ প্রতিবেদক
টাকার কুমির শহর রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মালেক চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের শহর রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে চাঁদাবাজি অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে ইতিমধ্যে প্রধান বন সংরক্ষক বরাবরে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা।

সর্বশেষ ৯ মে রাতে মানিকছড়ি রাবার বাগান এলাকায় একটি কাঠ বোঝাই ট্রাক আটক করে দেড় লক্ষ টাকা আদায় করে ছেড়ে দেয় শহর রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মালেক। একই রাতে সেগুন কাঠ বোঝাই লোহা কামালের একটি গাড়ি আটক করে চাঁদাদাবি করলে লোহা কামালের লোকজন নিয়ে হামলা চালিয়ে গাড়িটি ছিনিয়ে নেয় এবং ফরেস্ট অফিসারদের বহনকারী গাড়ির চাবি নিয়ে যায়, যা এখনো উদ্ধার হয়নি। শহর রেঞ্জ কর্মকর্তা হলেও আব্দুল মালেক দাফিয়ে বেড়াচ্ছেন সর্বত্র।

এই বিষয়ে ফটিকছড়ির মেয়র উপজেলা আইনশৃঙ্গখলা সভায় প্রশ্ন তুলেন এবং শহর রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন। আব্দুল মালেকের নিজ বাড়ী কুমিল্লা জেলা বুড়িচং উপজেলা প্রত্যান্ত গ্রামে।  পড়াশোনা শেষ করে নন ক্যাডার ফরেস্ট রেঞ্জার হিসেবে বন বিভাগে যোগদান করে। প্রথম পোষ্টিং মন্দাকিনি বিট। ওখানে সে অবৈধ ব্যবসায়ীদের সাথে যোগসাজশে সংরক্ষিত বনভূমি ধ্বংসের মূল ভূমিকা পালন করেন। যার কারনে মন্দাকিনি বিট এলাকাটি একটি ধুধু মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। রেঞ্জ কর্মকর্তা হিসেবে শহর রেঞ্জ তাহার প্রথম পোষ্টিং সে নিজেকে বিসিএস বন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন।

চাকুরীর শুরুতেই তিনি অসহনীয় দুর্নীতি শুরু করেন অতি চালাক ও ধূর্ত এই কর্মকর্তা। শহর রেঞ্জে একটি নিজস্ব সিন্ডিকেট তৈরি করেন। তার সিন্ডিকেটের সদস্য হলেন, ফরেস্ট গার্ড আছলাম, লতিফ, জাকির, নেজাম, কায়ছার। চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের শহর রেঞ্জের এলাকা শুধু শহর এলাকা হলেও তার চাঁদাবাজির এলাকা মিরসরাই, ফটিকছড়ি, ভুজপুর, সীতাকুন্ড, হাটহাজারী, বোয়ালখালী ইত্যাদি। বৃহৎ এলাকায় স্পেশাল বাহিনীর নাম করে অবৈধ হাইস ভাড়া করে ইউনিফর্ম ব্যতীত বন বিভাগের অনুমতি ব্যতীত ডিবি পুলিশের ন্যায় এফডি লেখা শার্ট পোশাক পড়ে সরকারী অস্ত্র হাতে সারারাত ব্যাপী চাঁদাবাজী করে থাকেন। বিভিন্ন কাঠ ও ফার্নিচার গাড়ি থেকে তিনি মধুনাঘাট ব্রিজ এর গোড়ায় প্রতিদিন আশি হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করেন। রাসেল ও সুমন তার নামে চাঁদা আদায় করে। রাসেল কিছুদিন আগে র‍্যাব চান্দগাঁও এর হাতে কাঠের গাড়ি হতে টাকা উঠানোর সময় হাতে নাতে র‍্যাবের হাতে ধরা পড়ে। দুই মাস জেল খাটার পর রেঞ্জার মালেকের চেষ্টায় জামিনে বের হয়ে আবার সুমনকে সাথে নিয়ে চাঁদা উঠানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
হেয়াকো, ভুজপুর ও কয়লা এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমির গাছ পাচারের সময় আদায়কারী হিসাবে থাকেন হাশেম। প্রতিদিন ত্রিশ থেকে ৪০ হাজার টাকা আদায় করে থাকেন তিনি। ফটিকছড়ি ও নাজিরহাট এলাকায় চাঁদা উত্তোলনের দায়িত্বে আছেন গোড়া মিয়া। দাতমাড় এলাকায় হাশেম, নাজিরহাট এলাকায় জসিম, আলাউদ্দিন তারা এসব এলাকা হতে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করে।

তাছাড়া হাটহাজারী চেক স্টেশন হতে রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: আব্দুল মালেক এর নামে টিপি এবং টিপি বর্হিভূত অবৈধ কাঠের গাড়ির চাঁদা প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা টুকেন আকারে যায়, ফৌজদারহাট চেক স্টেশন হতে একই প্রক্রিয়ায় টিপি এবং টিপি বর্হিভূত অবৈধ কাঠের গাড়ির চাঁদা প্রায় সত্তর হাজার টাকা পকেটে টোকেন আকারে প্রতিদিন যায়।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম শহর এলাকায় তার রয়েছে একটি মোটরসাইকেল বাহিনী। যার দায়িত্বে রয়েছেন ফরেষ্ট গার্ড লতিফ ও ফরেস্ট গার্ড জাকির। তারা পুরো শহর চষে বেড়ায় মানুষের ব্যবহারিত ফার্নিচার, অতি প্রয়োজনীয় অল্প চিড়াই কাঠ পেলেও তারা এগুলো ধরে বিশাল অংকের টাকা আদায় করে। তাছাড়াও মালেকের রয়েছে ব্যক্তিগত মাসিক চাঁদা নির্ধারণ। বলিরহাট কাঠ, ফার্নিচার ও সমিল ব্যবসায়ী সমিতি হতে মাসিক এক লক্ষ টাকা নিয়ে তার বিনিময়ে ঐ এলাকায় কোন অভিযান পরিচালনা করেন না। এক কিলোমিটার, বহদ্দার হাট, হালিশহর ও ফিরিঙ্গিবাজার প্রত্যেকটি কাঠ ব্যবসায়ী মালিক সমিতি থেকে প্রতি মাসে পঞ্চাশ হাজার টাকা আদায় করে থাকেন। চট্টগ্রাম শহর এলাকার শতাধিক লাইসেন্স বিহীন সমিল হয়েছে। তাদের কাছ হতে প্রতি মাসে প্রত্যেকটি বিশ হাজার টাকা আদায় করে সব লাইসেন্স ধারী সমিল মালিকদের কাছ থেকে মাসিক দশ হাজার টাকা আদায় করেন।
আরো জানা গেছে, মালেকের টাকা উপার্জনের নতুন নতুন কৌশল সরকারী যত কাজ হবে তা কোন ঠিকাদারকে করতে দেন না। কোটেশন যা দেয়ার যা-ই হোক না কেন সমস্ত কাজের টাকা তাকে বুঝিয়ে দিতে হয় এবং কোন কাজ না করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে ঐ টাকা সে একাই আত্মসাৎ করে দেন। চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে ৫ টি চেক ষ্টেশন রয়েছে, যার প্রত্যেকটি থেকে মাসিক পঞ্চাশ হাজার টাকা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কথা বলে আদায় করেন মালেক। ফিল্ড পর্যায়ে বিভিন্ন বন কর্মচারীদের কাছ হতে বিভাগীয় কমিটির সদস্য হওয়ায় বদলীর কথা বলে টাকা দাবী করে ও আদায় করেন। অনেকেই বলেন, টাকার কুমির হয়ে উঠেছেন মালেক। তার অবৈধ উপার্জিত অর্থ তার নিজের এক্যাউন্ট ও তার স্ত্রীর এক্যাউন্টে জমা রাখেন। ঢাকায় কিনেছেন ফ্ল্যাট, গ্রামে তার পরিবারের জন্য সদস্যদের নামে দামি জমি ক্রয় করেছেন এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। তার ন‍্যাশনাল আইডি এবং তার স্ত্রীর ন্যাশনাল আইডি কার্ড দিয়ে সাব রেজিষ্ট্রার অফিসের ই নথিতে সার্চ দিলে সমস্ত তথ‍্য বের হবে। দুদক কর্তৃক দ্রুত তদন্ত পূর্বক তাকে শাস্তির আওতায় আনা হউক। মাঠ পর্যায়ের শত শত বন কর্মীদের আবেদন অত্র অফিসে জমা পরে।

এই বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য আব্দুল মালেকের ব্যক্তিগত নাম্বারে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেনি। এবং প্রায় সময় মোবাইল বন্ধ রাখেন অন‍্য গোপন নাম্বারে কথা বলেন।