কক্সবাজারের উত্তর বন বিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিট অফিসার জুয়েল চৌধুরীর বিরুদ্ধে জব্দকৃত একটি মোটরসাইকেল গোপনে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে তিনি তড়িঘড়ি করে বাইকটি ফেরত নিলেও ক্রেতার টাকা এখনো ফেরত দেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্বের এক রেঞ্জ কর্মকর্তা কর্তৃক জব্দ করা একটি এপাচি আরটিআর মোটরসাইকেল ফুলছড়ি রেঞ্জ কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাখা ছিল। কিন্তু চলতি মাসের ১৩ আগস্ট ওই বাইকটি স্থানীয় করিম নামে এক ব্যক্তির কাছে মাত্র ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন বিট অফিসার জুয়েল চৌধুরী। শর্ত ছিল, টাকার পাশাপাশি একই মডেলের একটি ভাঙাচোরা বাইক দিতে হবে।

করিম জানান, তিনি শর্ত অনুযায়ী একটি পুরনো বাইক ও নগদ টাকা দিয়ে মোটরসাইকেলটি ক্রয় করেন। এর আগের দিন (১২ আগস্ট) তিনি ঈদগাঁও স্টেশনের একটি গ্যারেজ থেকে প্রায় ১০–১৫ হাজার টাকা খরচ করে বাইকটি চালানোর উপযোগী করেন। কিন্তু বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসতেই দ্রুত গোপন চুক্তি ফাঁস হয়ে যায়। তখন জুয়েল চৌধুরী তড়িঘড়ি করে করিমের কাছ থেকে বাইকটি ফেরত নিলেও অর্থ ফেরত দেননি।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয়দের অভিযোগ—
“ফুলছড়ি রেঞ্জ এলাকায় সাধারণ মানুষ বসতবাড়ি সংস্কার করতে গেলেও বিট অফিসারকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। অন্যথায় হয়রানি বা ভাঙচুরের শিকার হতে হয়।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিট কর্মকর্তা জুয়েল চৌধুরীর মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ মারুফ হোসেন বলেন—
“বন বিভাগের জব্দকৃত মালামাল নিয়ে কী করা হবে, তা একমাত্র আদালতই নির্ধারণ করবে। এসব বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ এবং কারও এখতিয়ার নেই। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।