বোয়ালখালী উপজেলার কুখ্যাত আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ মনছুর আলম পাপ্পী আবারও আলোচনায়।

তাঁর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জাল সনদ তৈরি, বিদেশে ভিসা জালিয়াতি, খুন-সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

একাধিক হত্যা মামলার আসামি হয়েও তিনি দলীয় পরিচয় ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন পার পেয়ে গেছেন।
তবে সম্প্রতি ভুক্তভোগীদের আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

জাল সনদ ও ভিসা জালিয়াতি:-

জুলাই বিপ্লবে আহত ছাত্র নেতা নাঈমুল রহমান রাব্বি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে এক লিখিত আবেদনে অভিযোগ করেছেন—
মনছুর আলম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জাল সনদ তৈরি করে মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে কানাডা (নং: E738592215) ও আমেরিকা (নং: R0395474) ভিসা সংগ্রহ করেন।

জুলাইযোদ্ধা নাঈমুর রহমান রাব্বির বক্তব্য:-

একজন খুন ও সন্ত্রাস মামলার আসামি কীভাবে বিদেশে জাল সনদ ব্যবহার করে আশ্রয় নেয়, তা দেশের জন্য লজ্জাজনক। তাঁর ভিসা বাতিল করে দেশে ফিরিয়ে আনা জরুরি।” এবং মনসুর আলম পাপ্পির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত আমি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে দাবি জানাবো ইন্টারপুলের মাধ্যমে মনছুর আলম পাপ্পিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হোক।

নাঈমুর রহমান রাব্বি আরো বলেন:-

কানাডা থেকে ফোন করে তিনি আমাকে সমঝোতার জন্য চাপ দেন। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি আমি ও আমার পরিবার।”

জুলাই বিপ্লব ও গুলি চালানোর অভিযোগ:-

২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে মনছুর আলম পাপ্পী নিজস্ব অস্ত্রধারী বাহিনী নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালান—এমন অভিযোগ উঠেছে।
এই গুলিতে রাব্বি সহ বহু মানুষ আহত হন, যাঁদের সরকারী গেজেটে (নং: ৭৭৮) আহত ভিকটিম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ৪ আগস্ট ২০২৪ নিউমার্কেট মোড়ে মনছুর আলম পাপ্পির নেতৃত্বে আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের উপর হামলা চালানো হয়। আন্দোলনরত নাঈমুর রহমান বাপ্পিকে মনছুর আলম পাপ্পি এবং তার সহযোগীরা পিটাতে পিটাতে আধ মরা হওয়ার পর একটি কাটুন এ ঢুকিয়ে রাখেন। ৫ই আগস্ট ২০২৪ শেখ হাসিনার সরকার এবং আওয়ামী লীগ দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে রাব্বির আত্মীয়-স্বজনরা নিউ মার্কেট মোড়ে রাব্বিকে কাটুন এর মধ্যে খুঁজে পান, জরুরি অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কোন মতে বেঁচে যান রাব্বি, শারীরিক অঙ্গহানি হওয়ায় রাব্বি এখনো সাধারণভাবে জীবন যাপন করতে পারেন না।

খুন থেকে ভূমিদস্যুতা: অভিযোগের পাহাড়
স্থানীয়রা বলেন:-

মনছুর আলম এলাকায় আতঙ্কের প্রতীক। আন্দোলনের সময় তাঁর গুলিতে রাস্তায় রক্ত ঝরেছিল।”

বোয়ালখালীর বাসিন্দারা আরো জানিয়েছেন—
মনছুর আলম ও তাঁর অনুসারীরা বহু বছর ধরে এলাকাজুড়ে খুন, চাঁদাবাজি, নদীঘাট দখল, পরিবহন সিন্ডিকেট ও ভূমিদস্যুতা চালিয়ে আসছে।

অভিযোগের সারসংক্ষেপ:-

একাধিক হত্যা মামলার আসামি

ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায়

নদীঘাট ও গার্মেন্টস পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণ

সরকারি খাস জমি দখল

থানায় প্রভাব খাটিয়ে মামলা ধামাচাপা

দলের ছত্রছায়ায় নিরাপদ আশ্রয়..

মনছুর আলম পাপ্পী দীর্ঘদিন ছিলেন বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ভাইস প্রেসিডেন্ট।দলীয় প্রভাব ও কেন্দ্রীয় নেতাদের আশীর্বাদে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা টেকেনি।

এক স্থানীয় সাংবাদিক বলেন:-

প্রশাসনের চোখে তিনি ছিলেন দলীয় নেতা, অপরাধী নয়। এটাই তাঁকে রক্ষা করেছে।”

বিদেশে পালিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন....

জুলাই আন্দোলনের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তিনি কানাডায় পালিয়ে যান এবং পরবর্তীতে আমেরিকায় যাতায়াত করেন।
অভিযোগ রয়েছে—সেখান থেকেও ভুক্তভোগীদের ফোনে ভয়ভীতি ও সমঝোতার চাপ দিচ্ছেন।

রাব্বি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে দাবী করেছেন:-
কানাডা ও আমেরিকার ভিসা বাতিল করে ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা হোক।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন:-

“জাল সনদে বিদেশি ভিসা নেওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ। চাইলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাঁকে দেশে আনা সম্ভব।”

প্রশাসনের নীরবতা ও ভবিষ্যতের প্রত্যাশা:-

বহু অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন এখনও সক্রিয় হয়নি।
আইনজীবীদের মতে, রাজনৈতিক ছত্রছায়াই তাঁকে অদৃশ্য প্রটেকশন দিয়েছে।

ভুক্তভোগীরা আশাবাদী:-
নতুন সরকার বা অন্তর্বর্তী প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং জাল সনদ, খুন ও সন্ত্রাসের দায়ে তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করবে।

জনগণ এখন আশা করছে:-

“আইনের হাতে ধরা পড়ুক পাপ্পী, যেন ভবিষ্যতে কেউ আর ছত্রছায়ায় অপরাধের রাজত্ব কায়েম করতে না পারে।”

মনসুর আলম পাপ্পিকে কয়েকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি।