নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সেকান্দর কলোনী-আকবর শাহ সড়কের বন্ধ হয়ে যাওয়া উন্নয়ন কাজ পুনরায় চালু হবে বলে আশা করছে এলাকাবাসী।


হাটহাজারীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের বক্তব্যকে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানিয়েছে হাটহাজারীবাসী। উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি গঠনের ঘোষণা হাটহাজারীর সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন তিনি। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করার পরিকল্পনার কথাও জানান।স্থানীয়দের মতে, তাঁকে নির্বাচিত করে জনগণ কোনো ভুল করেনি; বরং একজন দায়িত্বশীল, দৃঢ় ও জনবান্ধব প্রতিনিধিকে পেয়েছে হাটহাজারী।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ব্যারিস্টার মীর হেলাল স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দেন, এখন থেকে কাউকে আলাদা করে সতর্ক করা হবে না এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে,এমন কোনো কার্যক্রম কাউকে করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “আমি মানুষের সেবা করতে এসেছি, ক্ষমতা দেখাতে আসিনি। আমি যেহেতু করিনি, ভবিষ্যতেও করব না, কাউকেও করতে দেব না।” তিনি আরও বলেন, অতীতেও অনিয়ম ও শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন, তবে তখন তাঁর রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ছিল না। এখন হাটহাজারীর মানুষ সর্বোচ্চ ভোট দিয়ে তাঁকে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে, আর সেই দায়িত্বের মর্যাদা রক্ষা করা তাঁর অঙ্গীকার।
চাঁদাবাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
হাটহাজারীতে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন,“বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো অনিয়ম বা অপরাধ করতে পারবে না। অন্য দল থেকে যোগ দেওয়া ব্যক্তিরাও এর বাইরে নন।”
এছাড়া বাজার ব্যবস্থাপনা ও জনশৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, যত্রতত্র ভ্যানগাড়ি বসানো ও রাস্তার ওপর দোকান স্থাপন করে যানজট সৃষ্টি করা যাবে না। মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি করে কোনো কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না।
পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ হাটহাজারীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সকল ব্যানার ও ফেস্টুন নামিয়ে ফেলার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত উপজেলা গড়তে শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতা অপরিহার্য।
আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, কোনো অপরাধে জড়িত হলে দলীয় পরিচয় বা নেতাদের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না বলে কড়া বার্তা দেন ব্যারিস্টার মীর হেলাল। তিনি বলেন,
“হাটহাজারীর মানুষ যে আমানত আমার হাতে তুলে দিয়েছে, প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও তা রক্ষা করব।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ব্যারিস্টার মীর হেলালের এই বক্তব্য হাটহাজারীতে সুশাসন, শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়—এই ঘোষণাগুলো মাঠ পর্যায়ে কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং জনমানুষ কতটা সুফল পায়।