চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিংয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগের গোপন বৈঠকের প্রস্তুতিকালে সাংবাদিক নেতা,পাঁচজন নারী আইনজীবীসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নগরের মনসুরাবাদ ওয়াপদা কলোনি সংলগ্ন হাজী ফজলুল করিম চৌধুরী ‘রয়েল টাচ’ অ্যাপার্টমেন্টের পঞ্চম তলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেত্রী অ্যাডভোকেট উম্মে হাবিবার বাসভবনে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় সেখানে কয়েকজন নেতাকর্মী জড়ো হন। খবর পেয়ে ডবলমুরিং থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের যীশু রায় চৌধুরী, জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট উম্মে হাবিবা, অ্যাডভোকেট কামেলা খানম, অ্যাডভোকেট আয়েশা হেভেন, অ্যাডভোকেট সুজলা অন্তরা, অ্যাডভোকেট শারমিন ইয়াসমিন নিশু, ইস্কান্দার মির্জা, সঞ্জয় কান্তি নাথ, এস এম সালাউদ্দিন, আহসান আবিদ, সুলতান মাহমুদ জিদান, পার্থ প্রতিম নন্দী, শুভ আইচ, মশিউর রহমান আবির, জাকির হোসেন।
পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী রয়েছেন। আওয়ামী লীগপন্থী সাংবাদিক যীশু রায় চৌধুরী সাংবাদিক হাউজিং সোসাইটির সেক্রেটারি। অ্যাডভোকেট উম্মে হাবিবা বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে পরিচিত। ইস্কান্দার মির্জা হালিশহর থানা আওয়ামী লীগের দপ্তরবিষয়ক সম্পাদক এবং শুভ আইচ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের বঙ্গবন্ধু পরিষদের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ছাড়া কামেলা খানম রুপা চন্দনাইশ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক, সুজলা অন্তরা চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক এবং শারমিন ইয়াসমিন নিশু চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, ‘শনিবার রাতে থানা এলাকার একটি স্থান থেকে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই থেকে তিনজন আইনজীবী রয়েছেন। সবাই আইনজীবী নন। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।