আজ ২৯ আগস্ট (২০২২) সোমবার আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নিউরোসার্জন অধ্যাপক ডা. এল.এ. কাদেরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী । উল্লেখ্য, প্রখ্যাত নিউরোসার্জন অধ্যাপক ডা. এল.এ. কাদেরী গত বছর ২০২১ সালে ২৯ আগস্ট চট্টগ্রামের সিআরসিআর হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। 
অধ্যাপক ডা. এল.এ. কাদেরী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ প্রাক্তন ছাত্র সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বি এম এ) চট্টগ্রাম শাখার দু’বার নির্বাচিত সভাপতি, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি, বাংলাদেশ সোসাইটি অব সার্জনস্ এর সভাপতি, বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউরোসার্জন’ এর কেন্দ্রীয় সভাপতি, বহুবার চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি, সিনিয়র ডক্টরস ক্লাব সভাপতি ও চট্টগ্রাম শিশু হাসপাতালের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। বি.এম.এ সভাপতি থাকাকালীন সময়ে’৯০ সালে তিনি পেশাজীবী জনতার নেতা হিসেবে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ঠ ও সাহসী ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে তিনি ইউএসটিসি’র প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পালন করেন।  International Biographical Centre তাকে ২০০১ সালে আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বে সম্মানিত করেন এবং ঐ বছরই Dictionary of International Biography তে বিশ্বের খ্যাতনামা ব্যক্তিদের সাথে তাঁর জীবনি প্রকাশিত হয়। 
অধ্যাপক ডা. এল.এ. কাদেরী বিগত শতাব্দীর মাঝ ভাগের আগে ১৯৪১ সালের ১লা অক্টোবর চট্টগ্রাম মহানগরীর ৩৪৫, দেওয়ানবাজার নবাব সিরাজদৌল্লা রোডস্থ পৈত্রিক বাড়ীতে জন্ম গ্রহণ করেন। চট্টগ্রাম শহরেই তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়। ১৯৫৭ সালে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে কৃতিত্বের সাথে ম্যাট্রিকুলেশন, ১৯৫৯ সালে কৃতিত্বের সাথে আই এস সি পাশ করার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে এম বি বি এস এ ভর্তি হন। ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত এম বি বি এস ফাইনাল পরীক্ষায় সারাদেশের মধ্যে স্বর্ণপদকসহ প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এরপর ১৯৬৫ সালের ১লা জানুয়ারী থেকে ১৯৬৮ সালের ২৯শে এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাউস সার্জন, সিনিয়র হাউস সার্জন ও ইমারজেন্সী মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬৮ সালে চিকিৎসা বিজ্ঞানের উচ্চতর শিক্ষার জন্য ডা. এল.এ. কাদেরী বিলাত যান। সেখানে তিনি ১৯৬৮ সালে Diploma in Venereolog, ১৯৭১ সালে Neurosurgery তে সারা পৃথিবীর ছাত্রদের মধ্যে কৃতিত্বের সাথে FRCSপাস করেন এবং ১৯৭৭ সালে Microsurgery উপর ডিগ্রী নেন। ডা. এল.এ. কাদেরীর পিতা মরহুম আবদুল লতিফ উকিল ছিলেন বৃট্রিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনে স্বাধীনতা সংগ্রামী। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির প্রথম মুসলিম সভাপতি, নিখিল ভারত মুসলিম লীগ, চট্টগ্রাম শাখার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। ১৯৭৮ সালে অধ্যাপক ডা. এল.এ. কাদেরী তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারের লিখিত অনুরোধে স্বদেশে ফিরে আসেন। সে সময়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রী, পরবর্তীতে দেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. বদরুজদোজা চৌধুরী ঢাকার নিউরোসার্জারী বিভাগে যোগ দিতে বললে ডাঃ এল.এ. কাদেরী স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে নিউরোসার্জারী বিভাগ খোলার সুযোগ দিতে অনুরোধ জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই অনুরোধ রক্ষা করেন। সেই সময়েই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে নিউরোসার্জারী বিভাগ খোলা হয়। অধ্যাপক কাদেরী শুরু থেকে অবসর গ্রহণের আগ পর্যন্ত এই বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। 
১৯৭১ সালে লন্ডনে থাকা অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বলিষ্ট ভূমিকা রাখেন। লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশের চিকিৎসকদের নিয়ে ‘‘বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন” নামে সংগঠন করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ে তুলতে সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি হাটহাজারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পিতার নামে আবদুল লতিফ উকিল ভবন এবং হাটহাজারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ডা. এল.এ কাদেরী ভবন নির্মাণে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। বিত্তহীন ও দুঃস্থ মহিলাদের স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করেন। 
স্ত্রী সুরাইয়া কাদেরী, পুত্র ইঞ্জিনিয়ার রিয়াদ কাদেরী, কন্যা ড. সোনিয়া কাদেরী, ছোট দুই ভাই সাংবাদিক-মুক্তিযোদ্ধা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত ও আবুল মোহসেনাত কাদেরী (সেখু) সহ দেশ-বিদেশে অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী এবং শুভাকাক্সক্ষী রয়েছেন। 
অধ্যাপক ডা. এল.এ. কাদেরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র ট্রাস্ট, চট্টগ্রাম এর কার্যালয়ে সোমবার সন্ধ্যায় এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার, বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র ট্রাস্ট, চট্টগ্রাম এর চেয়ারম্যান ডা. মাহফুজুর রহমান।