চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বিশ্বময় করোনার থাবায় যখন লাখ লাখ লোকের প্রাণহানি ঘটেছিল তখন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কঠোর নিদের্শনায় সারা দেশের ন্যয় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন করোনা নিয়ন্ত্রনে বিভিন্ন জনসচেতনতামুলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। চসিক মাইকির্ং লিফলেট বিতরণ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট আইসোলেশন সেন্টার, চসিক জেনারেল হাসপাতালকে ১৪০শয্যা বিশিষ্ট আইসোলেশন সেন্টার, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পাবলিক লাইব্রেরীতে ৫০শয্যা বিশিষ্ট আইসোলেশন সেন্টার, টেন্সিং বুথ স্থাপন করে নগরীতে হত দরিদ্রদের মাঝে খাদ্য বিতরণ ও বিনামূল্যে মাক্স বিতরণসহ নানা রকম উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। যে কারেণ চট্টগ্রাম কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন কমে এসেছিল। পরবর্তীতে সরকার প্রদত্ত টিকা বিনা মূল্যে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে ১ম, ২য় ও বুষ্টার ডোজ টিকা প্রদান করা হয়। তিনি বলেন, এখনো করোনা শুন্যের কোটায় নেমে আসেনি তাই আমাদের সচেতনভাবে মাক্স পড়ে চলাফেরা করা এবং সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস চালু রাখা প্রয়োজন। মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম নগরীকে সুন্দর রাখতে গেলে সকল শ্রেণী পেশার  ব্যক্তিত্বের পরামর্শ আবশ্যক। আজ রবিবার বিকেলে বাটালিহিলস্থ চসিক নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে সিটি ল্যাবেল কো-অর্ডিনেটর কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
চসিক সচিব খালেদ মাহমুদের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নারী নেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন, প্যানেল মেয়র মো. গিয়াস উদ্দিন, আফরোজা কালাম, কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী, মোবারক আলী, আবুল হাসনাত মো. বেলাল, আবদুস সালাম মাসুম, নুরুল আমিন, আবদুল মান্নান, শফিকুল ইসলাম, সংরক্ষিত কাউন্সিলর জেসমিন পারভীন জেসী, রুমকী সেন গুপ্ত, প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার, মেজর (অব) এমদাদুল ইসলাম, এড. মাহাফুজুর রহমান খান, ওমেন চেম্বারের অবিদা মোস্তাফা, রেড ক্রিসেন্টের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জব্বার, লায়ন রফিক আহমদ, মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান মাকসুদ আহমেদ, জেসমিন সুলতানা পারু, জেসমিন আকতার, শাহরিয়ার খালেদ, এড. রেহেনা কবির, চসিক ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইমাম হোসেন রানা, মো. শাহাজাহান, চসিক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিন, সমাজকর্মী ইফতেখার কামাল প্রমুখ।
মেয়র আরো বলেন, কোভিড-১৯ রেসপন্স গ্রান্ট প্রকল্পের জন্য বিশ্ব ব্যাংক ২৬৭ কোটি ৭২ লক্ষ টাকার প্রকল্প গ্রহণের জন্য বরাদ্দ রেখেছেন। এই প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে একটি সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব নগরী গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তিনি আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে এই কমিটির সদস্যদের নিজ নিজ অভিজ্ঞতার আলোকে পরামর্শ ভিত্তিক তথ্য উপস্থাপনের জন্য আহবান জানান। মেয়র বলেন, বন্দর নগরীকে স্বাস্থ্য বিনোদন ও পরিবেশ সম্মত করার লক্ষ্যে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় ৩৬ একর জায়গার উপর এমিউসমেন্ট পার্ক স্থাপন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জাতিসংঘ পার্ককে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক পার্কে রূপান্তর করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর সড়ক, অলিগলি সংস্কার প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হলে নগরীর নান্দনিক রূপ পরিষ্ফুটিত হবে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নে খালের উপর বাঁধ তৈরী করার ফলে জলাবদ্ধতা থেকে নগরবাসি পরিত্রান পাচেছ না। তিনি সভাকে অবহিত করে বলেন, আগামী মার্চ মাসের মধ্যে খাল ও নালার পানি চলাচলের পথ সুগম করে না দিলে আগামী বর্ষায় যদি জলাবদ্ধতার স্বাকীর হতে হয় এর দায়দায়িত্ব প্রকল্প বাস্তবায়নকারীদের নিতে হবে। তিনি সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধ স্থাপনা তৈরী ও নানা ধরনের পসরা সাজিয়ে যারা ব্যবসা করেন তাদের উচ্ছেদ করা হলেও আবার পুন: দখল হওয়ার কারণে যে ভোগান্তি হচ্ছে তা থেকে পরিত্রানের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসিকে সচেতন হয়ে এদের প্রতিরোধ করার জন্য আহবান জানান। তিনি সংশ্লিষ্ট থানাকে এ ব্যাপারে কঠোর নজরদারী রাখতে সি.এম.পি কমিশনারকে নিদের্শ দিতে আহবান জানান। মেয়র নগরীর শিশুদের খেলাধুলার জন্য যেখানে যে পরিমান জায়গা পাওয়া যায় সে পরিমান জায়গাতে মিনি পার্ক ও খেলার মাঠ তৈরী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান।