সংস্কৃতিচর্চা মনুষত্বের বিকাশে সহায়ক আর তাই বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশে সরকার কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। মঙ্গলবার পাহাড়তলী শেখ রাসেল পার্কে বোধন আবৃত্তি পরিষদ চট্টগ্রামের আয়োজনে বসন্ত উৎসবে মেয়র এ মন্তব্য করেন।
উৎসবের কথামালা পর্বে প্রধান অতিথি মেয়র বলেন, পশুর সন্তান পশু হলেও সব মানুষের সন্তান মানুষ হয়না। মানুষ সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে সত্যিকারের মানুষ হয়ে উঠে। এজন্য আমাদের নিজস্ব বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশে সরকার কাজ করছে। কেবল চট্টগ্রামের মেয়র হিসেবে নয়, একজন সংস্কৃতিমনা মানুষ হিসেবে বাঙালি সংস্কৃতির জন্য কাজ করছি। অমর একুশে বইমেলার আয়োজন থেকে বসন্ত উৎসব-সংস্কৃতিচর্চার প্রতিটি কার্যক্রমে সংযুক্ত ছিলাম, আছি থাকব।
উৎসবে কবিতা আবৃত্তি করেন নগরপিতা। নাগরিকদের আহ্বান জানান বই পড়ার, সংস্কৃতিচর্চার আর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার।
অনুষ্ঠানে একুশে পদকপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন ওস্তাদ আজিজুল ইসলামের বংশীবাদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রভাতি অধিবেশন। এরপর বোধন আবৃত্তি পরিষদ চট্টগ্রামের সভাপতি সোহেল আনোয়ারের একক আবৃত্তি পরিবেশনায় প্রকৃতিতে বসন্তের নানান রঙ আরো বর্ণিল হয়ে ওঠে। এরপর দলীয় সংগীতে বসন্তের দ্বার জাগ্রত করে সংগীতভবন, অভ্যূদয়, সুরপঞ্চম ও ধ্রূপদী সংগীত নিকেতন। দলীয় নৃত্যে ফাগুনের রঙিন ছন্দে আনন্দে দোলায়িত করে দ্যা স্কুল অব ক্লাসিকাল ডান্স, ওডিসি এন্ড ট্যাগোর ডান্স মুভমেন্ট সেন্টার, সুরাঙ্গন বিদ্যাপীঠ, নৃত্যরূপ একাডেমির নৃত্যশিল্পীরা। প্রভাতি অধিবেশনে একক সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী শ্রেয়সী রায়, সমরজিৎ রায়, রিষু তালুকদার, মাহবুবুর রহমান সাগর, সুপ্রিয়া শীল, সুব্রত ধর, রিমি সিনহা ও ঈশা দে। দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করে বোধন আবৃত্তি পরিষদ চট্টগ্রাম।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি চৌধুরী ফরিদ, দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক প্রণব বল, বিডিনিউজ চট্টগ্রাম ব্যুরো ইনচার্জ মিন্টু চৌধুরী, সাংবাদিক ডেইজি মওদুদ, নাট্যজন শুভ্রা বিশ্বাস, মোঃ সাজ্জাদ, বোধনের সভাপতি সোহেল আনোয়ার, সহ-সভাপতি সুবর্ণা চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এস এম আবদুল আজিজ।
এসময় বক্তারা বলেন, বাঙালি যে উৎসবপ্রিয় তার প্রমাণ মিলেছে আজকের এ বসন্ত উৎসবে। আমরা আজ করোনাকে জয় করে পথে হাঁটছি। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়তে হলে আগামীতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।
বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবের বিকালের অধিবেশন। এরপর যন্ত্রসংগীতে অংশ নেয় ভায়োলিনিস্ট চিটাগং। পরে কখনো সমবেত সংগীত, কখনো একক গানের পাশাপাশি, নাচ-গানে পুরো অনুষ্ঠান প্রাণময় হয়ে ওঠে বোধনের সদস্যদের রংখেলায়। এতে বাড়তি রসদ জুগিয়ে দেয় দীপক দাশের নেতৃত্বে ঢোলবাদকেরা। উৎসবে উপস্থাপনায় ছিলেন মৃন্ময় বিশ্বাস, অনুপম শীল, শ্রাবণী দাশ, শুভাগত বড়ুয়া, সাজ্জাদ হোসেন, অন্যান্য পাল, মৃণালিনী দেবী, শ্রাবণী বণিক, ইভান পাল, ফারজানা চৌধুরী, ইসমত ফারজানা।