বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয় বলে মন্তব্য করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো রেজাউল করিম চৌধুরী।
মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে মেয়র বলেন, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিলে তা রাষ্ট্রীয় কোন আর্থিক অথবা নিরাপত্তার ক্ষতির কারণ হতো না। বরং, ভাষা বিতর্ক যে বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটায় তার ফলে পাকিস্তান ভেঙে যায়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে জন্ম হয় স্বাধীন বাংলাদেশের। পাকিস্তানিদের চক্রান্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো চৌকস ছাত্রনেতারা বুঝতে পেরে দুর্বার গণ-আন্দোলন গড়ে তোলেন। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বঙ্গবন্ধুসহ অনেক ছাত্রনেতা গ্রেফতার হন। আবারো ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ এপ্রিল ভাষা আন্দোলনের পক্ষে লিফলেট বিতরণ করায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জননিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার হন। ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ সালে জেলে বসে বাংলা ভাষার দাবিতে অনশনও করেন বঙ্গবন্ধু। এভাবে বঙ্গবন্ধুসহ বাঙলা ভাষার পক্ষে লড়া সৈনিকদের প্রচেষ্টায় জনগণ বুঝতে পারে উর্দুকে ইসলামের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা কেবলই এলিট উর্দুভাষীদের নিজেদের ক্ষমতাকে সুসংহত করার চেষ্টা মাত্র। আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি এনে দিতে পারলেও বাঙালিরা বুঝতে পারলো তাদের ‘পেয়ারা পাকিন্তানের স্বপ্ন’ দু:স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ হলেও মূলত ভাষা আন্দোলনই আমাদের বুঝিয়ে দিল আমাদের স্বাধীন জাতি রাষ্ট্র গঠন করতে হবে যার ভিত্তি হবে বাঙালি জাতীয়তাবাদ। মূলত জাতীয়তাবাদের প্রশ্নই পূর্ব পাকিন্তান আওয়ামী লীগকে স্বল্প সময়েই পাকিন্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় দলে পরিণত করে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বেশ ভালভাবেই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাঙালিদের ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম দেয়।
মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাত ১২টা ০১ মিনিটে সিটি কর্পোরেশন মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে অস্থায়ী শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন মেয়র। এছাড়া এম এ আজিজ স্টেডিয়ামস্থ জিমনেশিয়াম মাঠে চসিক মেয়র, কাউন্সিলর এবং চসিকের কর্মকর্তাবৃন্দের সাথে আলোচনা সভায় অংশ নিবেন। দিবসটি উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। কর্পোরেশনভুক্ত মসজিদ সমূহে ভাষা শহিদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।