সীতাকুণ্ডে " ফুলের মতন আপনি ফুটাও গান " এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উদ্ধার হওয়া ১৯৪ একর সরকারী জায়গার উপর ডিসি ফ্লাওয়ার পার্কে দেশের মধ্যে এই প্রথম ফুলে ফুলে বাগান সাজিয়ে ফুলের উৎসব দর্শনার্থীদের মূখরিত করে তুলেছে।
জানা যায়,চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবু জাফর মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের উদ্যোগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পশ্চিম পাশে ফৌজদারহাট বন্দর লিংক রোড সংলগ্ন ১৯৪ একর সরকারী জায়গা উপর অপরাধ জগতকে ভেঙ্গে দেয়ার জন্য অবৈধ ভাবে দখলকারীদের উচ্ছেদ করে দেয় এবং সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের বাগান গড়ে তোলা হয়।এ বাগানের নাম দেয়া হয় ডিসি ফ্লাওয়ার পার্ক।এখানে দেশি বিদেশি শতাধিক প্রজাতির কয়েক লক্ষ বাহারি ফুল,বৃক্ষ,লতা গুল্মের অপার সৌন্দর্যময়ের ভিড়ে মূল আকর্ষণ টিউলিপ ফুল।সম্প্রতি হয়ে গেল ৯ দিন ব্যাপি ফুলের উৎসবের মেলা।ঐ মেলায় ফুল প্রেমী হাজার হাজার মানুষের মিলন মেলা ।এছাড়া এখানে আছে কায়কিং,ঘুড়ি উৎসব,বড়শি দিয়ে মাছ ধরার সুব্যবস্থা,শিশুদের জন্য কিডস জোন,নৌকা বাইচসহ শিশুতোষ প্রদর্শনী।ফুল উৎসবে নারী পুরুষ, শিশু কিশোর,যুবক যুবতি,বৃদ্ধবৃদ্ধা সকল বয়সি ও শ্রেণী পেশার মানুষের চিত্ত বিনোদনের উদ্দেশ্যে পুরো এলাকা সাজানো হয়ে ছিল।পাহাড় সমুদ্রে ঘেরা অনন্য অসাধারণ সীতাকুণ্ডে চট্টগ্রামকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটাতে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর।ডিসি ফ্লাওয়ারকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে বিশাল আকৃতির দৃষ্টিনন্দন ২টি দিঘীর মাঝখানে নির্মাণ করা হয় রাস্তা।দর্শনার্থীদের যাতায়াতের জন্য রাস্তা নতুন সাজে সাজিয়ে রঙ তুলির আঁচড়ে নতুন রূপ দেয়া হয়।সাজানো ফুলের বাগানে প্রবেশ করে যেন মনে হবে কোন এক অজানা স্হানে এসে প্রশান্তিতে ভরে গেছে মনটা।এখানে গাড়ি পার্কিং এর ব্যবস্হাও আছে।সার্বিক নিরাপত্তার জন্য সম্পূর্ণ পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং স্বেচ্ছাসেবক টিমও দায়িত্ব পালন করবে। প্রতিবন্ধী শিশু কিশোর ও এতিমদের জন্য বিশেষ ব্যবস্হা করা হয়। ফিজিক্যাল চ্যালেঞ্জড এবং বয়োবৃদ্ধদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্হা।একদিকে সমুদ্র অন্যদিকে মেরিন ড্রাইভ ঘিরে সরকারের ১৯৪ একর জায়গা নিয়ে মহাপরিকল্পনা করে দেশবাসীকে একটি দৃষ্টিনন্দন নান্দনিক আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট উপহার দিতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।সর্বোপরি এ আয়োজন চট্টগ্রামসহ সারা দেশের মানুষের মেধা মনন ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে পারবে বলে স্হানীয়দের প্রত্যাশা।ডিসি ফ্লাওয়ার পার্কটি সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষের জন্য উম্মোক্ত থাকবে।
উল্লেখ্য পার্কটি উদ্ভোধনের সময় জেলা প্রশাসক আবু জাফর মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে ফুলের উৎসব সম্পর্কে তুলে ধরেন।
এব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আশরাফুল আলম সবুজ বলেন,আমাদের ডিসি স্যারের উদ্যোগে তৈরী ফুলের বাগানটি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুন্দর ও মানবিক স্বপ্নের দেশের অগ্রযাত্রায় সব সময় আমরা সচেষ্ট।