চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার উত্তর জামিজুরী সাতছড়ি খালের পাশে আদর্শগ্রাম সংলগ্ন এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে জরিমানা আদায় করা স্বত্বেও থামাতে পাড়ছে না পাহাড় ও টিলা সংলগ্ন মাটি কাটা।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী পাহাড়-টিলা কাটা নিষিদ্ধ ও শাস্তিমুলক অপরাধ হলেও বন্ধ হচ্ছে না পাহাড়-টিলা কাটা। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে অসাধু চক্র প্রাকৃতিক টিলার মাটি কেটে বিক্রি করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যাচ্ছে। জানা যায় জামিরজুরীর সাবেক ৫ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য শফি ডিলারের ছেলে বর্তমান সহায়ক সদস্য মহিউদ্দীন মেম্বার গং এই চক্রের প্রধান।
আদর্শগ্রাম সংলগ্ন চারপাশে পাহাড় বেষ্টিত মাঝখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে কৌশলে কয়েক বছর মাছ চাষ করে প্রজেক্টের নামে মাটি কাটে থাকেন তারা। বিশেষ করে খালের উপর অবৈধ বাঁধ নির্মাণ করে গভীর রাতে মাটি বহনকারী গাড়িগুলোর শব্দে এবং রাস্তার কাঁপুনিতে এলাকাবাসীর ঘুম হারাম হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কিছুদিন পূর্বেও অর্থদণ্ড প্রদানের মাধ্যমেই প্রশাসনিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধ থাকায় চন্দনাইশে বন্ধ হচ্ছে না পাহাড়-টিলা ও আশপাশের মাটি নিধনযজ্ঞ।
অব্যাহত টিলা কাটার ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট ও পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে পাহাড়ের সবুজ বনাঞ্চল। আবাসস্থল হারাচ্ছে বন্যপ্রাণী। অতিবর্ষণে ভূমি ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। হাতি, বাঘ, হরিণ, বানরসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী লোকালয়ে বেরিয়ে প্রাণ হারাচ্ছে এবং মানুষের উদ্বেগ-আতংকের কারণ হচ্ছে।
মহিউদ্দিন মেম্বার শ্রমিক নিয়ে বিশাল টিলার অংশে মাটি কাটতে দেখে জানতে চাইলে, তিনি বলেন কিছু কিছু মাটি না কাটলে মানুষজন জায়গা ভরাট করে বাড়ি নির্মাণ করবে কিভাবে। টাকা দিয়ে সবাইকে ম্যানেজ করে নিয়েছি, আপনাকেও ম্যানেজ করব।
এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) জিমরান মোহাম্মদ সায়েককে ফোন করলে তিনি জানান- তিনি চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান করায় এ মূহুর্তে কোন ধরনের আইনত ব্যবস্থা নিতে অপরাগ। তাই পরে এসে এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম বলেন, মোবাইল কোর্ট চলার ২-৪ দিন পর মাটি কাটা বন্ধ রাখলেও অসাধু চক্রটি পুনরায় টিলা কাটা শুরু করে দেয়। টিলা কাটা রোধে প্রশাসন আগামীতে অর্থদণ্ড নয়, মামলা দিয়ে কারাদণ্ড দেয়ার চিন্তা ভাবনা করছে।