বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি চট্টগ্রাম (বিএনএসবি)’র ৪৬ ও ৪৭তম এবং চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ট্রাস্ট (সিইআইটিসি)’র ৩৬ ও ৩৭তম বার্ষিক সাধারণ সভা ১০ মার্চ শুক্রবার পাহাড়তলীস্থ ট্রাস্টের ইমরান সেমিনার হলে যথাক্রমে বিকেল ৫ টায় ও ৬টায় অনুষ্ঠিত হয়। ডা. কিউ.এম ওহিদুল আলমের কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে সভার সূচনা হয়। সিইআইটিসি’র ট্রাস্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান, বিএনএসবি’র প্রেসিডেন্ট ও দৈনিক আজাদী’র সম্পাদক এম.এ. মালেকের সভাপতিত্বে বিএনএসবি এবং সিইআইটিসি’র উক্ত সভায় বিগত দিনে মৃত্যুবরণকারী বেগম মুশতারী শফী, মিসেস গুলনাহার শহিদ, অধ্যাপক ডা. এ.এস.এম ফজলুল কবির ও ডা.জাফরুল হক চৌধুরীর শোক প্রস্তাব ও রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন আলহাজ্ব এস জোহা চৌধুরী।
সভায় বার্ষিক প্রতিবেদন পাঠ করেন বিএনএসবি’র অবৈতনিক সাধারণ সম্পাদক, সিইআইটিসি’র ম্যানেজিং ট্রাস্টি, আইএইচএল এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন। নীরিক্ষা প্রতিবেদন পাঠ করেন ট্রেজেরার মি.শওকত হোসেন এফসিএ। সিইআইটিসি’র মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) মো. গোলাম ফারুকের সার্বিক সহযোগিতায় সভায় মতামত পেশ করে সমর্থন জানান, অধ্যাপক ড.শফিক হায়দার চৌধুরী, ইঞ্জি: দিলদার হোসেন, মোস্তাফিজুর রহামান, মো. রিজওয়ান শাহিদী, ফাহিম উদ্দিন চৌধুরী প্রমূখ। আজীবন, ট্রাস্ট বোর্ডের সদস্য, হাসপাতালের সকল শ্রেণীর কর্মকর্তা ও কর্মচারীর উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত উক্ত সভায় জানানো হয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তথা গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গত ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর এস আর ও নং-৩৪৬-আইন/আয়কর/২০২২ মূলে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর অব্যাহতি ঘোষণা করে।
সভায় চক্ষু চিকিৎসা সেবাকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আরো ছড়িয়ে দিতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করে উপমহাদেশের চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন, চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল দৈনিক গড়ে ১২শ’ ও বছরে প্রায় ৪ লক্ষাধিক চক্ষু রোগীকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে। এছাড়া ৮টি অপারেশন থিয়েটারে দৈনিক ১২৫ থেকে ১৩০ জন রোগীর চোখের অস্ত্রোপচার হয়ে আসছে। যে কোন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বৎসরে লক্ষ লক্ষ রোগীকে সেবা প্রদান করা একটি বিশাল কাজ বলেই আমি মনে করি। এই সেবা আরো সহজে রোগীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সকলের আন্তরিক সহযোগিতা এই কাজকে আরো সফলতার দ্বারে পৌঁছে দিবে।
ট্রাস্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান এম.এ. মালেক বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই প্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে যাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছেন তাঁদের সবার প্রতি আন্ততরিক কৃতজ্ঞতা। বিশেষ করে যাঁরা জন্মলগ্ন থেকে বিরামহীন এবং নিরলসভাবে যোগ্য হাতে এই প্রতিষ্ঠানের হাল ধরে আছেন। তিনি বলেন, বিএনএসবি ১৯৭২ সাল থেকে দেশে অন্ধত্ব নিবারণ ও নিরাময়ের লক্ষ্যে সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমে অবিরামভাবে কাজ করছে। চক্ষু হাসপাতালের অন্যতম প্রকল্প অ্যাপোলো ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল এ ব্র্যান্ড নামে যাত্রা শুরু করেছে। আমরা সবাই এই প্রতিষ্ঠান সমূহের কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হতে পেরে গৌরবান্বিত বোধ করছি। সংস্থার অবৈতনিক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন প্রতিষ্ঠানের জন্মলগ্ন থেকে বিরামহীন এবং নিরলসভাবে যোগ্য হাতে হাল ধরে আছেন। তাঁর নিঃস্বার্থ প্রয়াস আমাদের সবাইকে অনুপ্রানিত করে। দোয়া করি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন তাকে সুস্থতা, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবন দান করেন। সাধারণ সভা সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য সকল সদস্য/সদস্যা, হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের তিনি ধন্যবাদ জানান।
সভায় বিগত দিনে সৎ, সততা ও কর্মদক্ষতায় স্বীকৃতস্বরূপ হাসপাতালে দুই যুগেরও বেশী সময় ধরে কর্মরত চারজনকে মনোগ্রাম খচিত ক্রেষ্ট, সনদ ও নগদ অর্থ দিয়ে দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়। এর হলেন, সিনিয়র সুপারভাইজার মো. শহিদুল ইসলাম,কাউন্সিলর আয়শা আক্তার, হাইজেনিক হেলপার মো. হানিফ ও হেলপার রাশেদা আক্তার। পরিশেষে ট্রাস্ট বোর্ডের চেয়ারম্যানের সমাপণী ভাষণে সভা সমাপ্তি হয়।