সরকারের তৃতীয় পর্যায়ে ভূমিহীন পরিবারের মাঝে ঘর প্রদান তথা আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় পাওয়া দোহাজারী মাস্টারঘোনায় ২২ পরিবারের ঘরে ফাটল ধরেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ২২ টি ঘরের মধ্যে ৪ নং ঘর মো. মনির, ৯ নং ঘর লাকি আকতার, ১১নং ঘর সাজু আকতার, ১২নং ঘর ফেরদৌস আলম, ১৬ নং ঘর জলিলুর রহমান, ১৮ নং ঘর মো. ইব্রাহিম, ১৯নং ঘর মিনু আকতারের ঘরে বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। তাছাড়াও সবকয়টি ঘরে ছোট-খাটো ফাটল ধরার কারণে ঘরে বসবাস করতে ভয় পাচ্ছে বাসিন্দারা। এর মধ্যে মিনু আকতার ও সাজু আকতারের ঘরের ফাটল বড় হওয়ায় আতংকে রাত কাটে তাদের। গত ২০২১ সালের ২০ জুন সরকারীভাবে তৃতীয় পর্যায়ে ভূমি ও গৃহহীন ৫১ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী উপহার ২ শতক জমিসহ সেমিপাকা ঘর দিয়েছিল। তৎ মধ্যে দোহাজারী মাস্টারঘোনা এলাকায় ২২ পরিবার এবং বৈলতলী খোদারহাট সংলগ্ন শঙ্খ নদীর পাড়ে ২৯ পরিবারসহ ৫১ পরিবারকে ঘর বিতরণ করা হয়েছিল। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রাক্তন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে চন্দনাইশ উপজেলায় ভূমি ও গৃহহীন ৫১টি পরিবারের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে উপকারভোগীদের কাছে ঘরের চাবি ও জমির দলিল হস্তান্তর করেন এমপি নজরুল ইসলাম চৌধুরী। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার চৌধুরী, চন্দনাইশ পৌরসভার মেয়র মাহবুবুল আলম খোকা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহফুজা জেরিন। ১ বছর ১০ মাসের মাথায় ঘরের ফাটল ধরায় বিপাকে পড়েছে ঘর পাওয়া মানুষগুলো। ঘরে ফাটল ধরার কারণে ঘর পেয়েও বসবাস করছেনা বেশ কয়েকটি পরিবার। আশ্রয়ণ প্রকল্পে ২টি ডিব টিউবয়েল থাকলেও একটি বিকল হয়ে পড়ায় খাওয়া ও ব্যবহারের পানির সংকটও প্রকটভাবে দেখা দিয়েছে। প্রকল্পের উপকারভোগী মিনু আকতার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ঘর পেয়ে তিনি খুবই খুশি। কিন্তু নির্মাণগত ত্রæটির কারণে ঘরে ফাটল ধরায় ছেলে-মেয়েদের নিয়ে আতংকে রাত কাটে তার। সাজু আক্তার বলেছেন, ঘরের ফাটলের বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করেছেন এবং তারা সংস্কার করে দিবেন বলেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দোহাজারী পৌর প্রশাসক মাহমুদা বেগম বলেছেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। পৌরসভা থেকে বরাদ্ধ দিয়ে দ্রæত ফাটল ধরা ঘরের মেরামতের ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন।