চিত্রকলায় বিমূর্ততার ছায়ায় সমাজ, জীবন ও দর্শনের মেলবন্ধন। এই ভাবনার প্রকাশ নিয়েই ঢাকার ধানমন্ডির সফিউদ্দিন শিল্পালয়ে শুরু হয়েছে চিত্রশিল্পী মনসুর কাজীর তৃতীয় একক প্রদর্শনী—‘বিমূর্তের সহাবস্থান’। প্রদর্শনীটি চলবে ১৫ জুলাই পর্যন্ত, প্রতিদিন বিকাল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত।

প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে শিল্পীর আঁকা ৭০টি শিল্পকর্ম, যেখানে রঙ, রেখা ও গঠনের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে সমাজের অসাম্য, ভারসাম্যহীনতা ও আধুনিক জীবনের জটিল ছাপ। বিমূর্ততার মাধ্যমে শিল্পী সেখানে নির্মাণ করেছেন নিজস্ব এক শিল্পভাষা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী বলেন,

> “মনসুর বিমূর্তে কাজ করে, তবে আমি মনে করি বিমূর্ত বলে কিছু নাই। যখন আমি এটাকে মূর্ত ভাবি, তখনই এটা মূর্ত।


তার কাজগুলো নিরীক্ষাধর্মী, প্রচলিত কাঠামো ভেঙে নতুনত্ব এনেছে। এই প্রদর্শনীতে কিছু 'মনযোগী কাজ' আমরা দেখতে পাচ্ছি।”
 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্পী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আবুল বারক আলভী বলেন,

> “মনসুর কাজীর এটি তৃতীয় প্রদর্শনী। তার ভবিষ্যৎ শিল্পচর্চায় আরও নতুন বৈশিষ্ট্য বের হয়ে আসবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।”

 

চিত্রশিল্পী ও শিক্ষক অধ্যাপক সৈয়দ সাইফুল কবীর বলেন,

> “মনসুর কাজীর কাজের একনিষ্ঠতা অনেক আগে থেকেই লক্ষ করি। এই প্রদর্শনীতে তার সেই চেষ্টার সফল প্রতিফলন হয়েছে। শিল্পপ্রেমী ও সমালোচকরাই এর মূল্যায়ন করবেন।”

 

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মিজানুর রহিম বলেন,

> “শিল্পী ছবি আঁকেন নিজের জন্য, আবার দর্শকের জন্যও। দর্শকের চোখে শিল্পকর্ম পূর্ণতা পায়। মনসুরের সাফল্য কামনা করি।”

 

নিজের শিল্পকর্ম সম্পর্কে শিল্পী মনসুর কাজী বলেন,

> “বিমূর্ত শিল্প এমন এক অভিব্যক্তি, যা দৃশ্যমান বাস্তবতার হুবহু প্রতিরূপ নয়। বরং আকার, রং ও অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে তার অন্তর্নিহিত প্রভাব প্রকাশ করে।


‘বিমূর্ত’ শব্দটির মূলতাত্ত্বিক তাৎপর্য ‘আলাদা করা’—এই ধারণা থেকেই আমার শিল্প ভাষা বিকশিত হয়েছে।”

এই প্রদর্শনী শুধু চিত্রায়ণের নিপুণতা নয়, বরং একজন শিল্পীর আত্মানুসন্ধান ও সমাজ-জিজ্ঞাসার প্রকাশ। মনসুর কাজীর ‘বিমূর্তের সহাবস্থান’ যেন দর্শকের চোখে তোলা এক আয়না, যেখানে দেখা যায় আমাদের সময়, সমাজ ও সত্তার নানা স্তর।