বাংলা সাহিত্যের দুই কালজয়ী মহাকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ সোসাইটি এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নানিয়াং টেকনোলজিকাল ইউনিভার্সিটি (NTU)-র অডিটোরিয়ামে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সম্প্রতি বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া মাইলস্টোন স্কুল ট্র্যাজেডিতে অকালপ্রয়াত শিশুদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, “এই নীরবতা শুধু শোক প্রকাশ নয়, বরং আমাদের এক প্রতিজ্ঞা— ভবিষ্যতে যেন এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য আমরা সকলে সচেতন ও দায়িত্বশীল হব।”


অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরস্থ বাংলাদেশি প্রবাসী, শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাঙালি ও অবাংলাভাষী সংস্কৃতিপ্রেমীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চেতনাকে প্রবাসে জাগ্রত রাখার প্রয়াসে এই অনুষ্ঠান ছিল এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

সোসাইটির সভাপতি সানোয়ার ডিটো তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল শুধু দুই কবিই নন, তাঁরা আমাদের জাতীয় আত্মার প্রতীক। তাঁদের সাহিত্য, সংগীত ও চেতনা আমাদের ঐতিহ্য ও মানবতার পথপ্রদর্শক।”

অনুষ্ঠানে ছিল: সিঙ্গাপুরের প্রথিতযশা শিল্পীদের কণ্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীত ও নজরুলসঙ্গীত, আবৃত্তি সংগঠন “কহন”-এর পরিবেশনায় কবিতার আবৃত্তি, রবীন্দ্র ও নজরুল রচনার উপর ভিত্তি করে নৃত্য পরিবেশনা, SBS-CFA (Center for Arts)-এর শিশু ও কিশোর অংশগ্রহণকারীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা সংস্কৃতি ও সাহিত্যের প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি হয়।

অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনায় ছিলেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক তৌহিদা রহমান টিনা, মাযারুল আবেদীন কে সাথে নিয়ে, তার সাবলীল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি আরো প্রানবন্ত হয়ে।