---আশরাফ উদ্দীন নাহিদ---
জলাবদ্ধতায় স্বস্তি ও প্রশংসিত নানা কার্যক্রম :
নগরীর জলাবদ্ধতা কমাতে সাড়ে ১৪ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। তবুও গত তিনবছরে ৩০ বার ডুবেছে চট্টগ্রাম। তবে গত বছর জলাবদ্ধতার প্রকোপ ছিল কম। গত বছর প্রকল্পগুলোর বাইরে থাকা ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৯টি খাল থেকে ৪১ লাখ ঘনফুট মাটি ও আবর্জনা অপসারণ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন গত বছরে নগরীর ৫০-৬০ টি বড় রাস্তার কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছিল,ইতোমধ্যে অনেক গুলো রাস্তার টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে।তার মধ্যে ৪০ বছর ধরে অবহেলিত ১ নম্বর ওয়ার্ড এর ঠান্ডাছড়ি -সেকান্দর কলোনী -আকবরশাহ রোড এর প্রকল্প টি ছিল, গত বছর টেন্ডার হাওয়া অনেক গুলো রোড এর সাথে সেকান্দর কলোনীর রোড টা ছিল ,মেয়র এর একক চেষ্টাই সেকান্দর কলোনির কাজ শুরু হলেও স্থানীয় সরকারের বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর এর শেষের দিকে কাজ বন্ধ হয়ে যাই, নানা তত্ত্ব ও সূত্র মতে সেকান্দর কলোনির রাস্তার কাজ শুরুর বিষয়ে মেয়র মহোদয় খুবই আন্তরিক ও নানা চেষ্টা অব্যহত রেখেছেন ।চলতি বছর (২০২৬) খুব কম সময়ের ভেতর কাজ শুরু হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে ।
এছাড়া ২০১৫ সালে সিটি করপোরেশনের প্রতিষ্ঠিত প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় কুক্ষিগত করে সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও তার পরিবার। গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্তৃত্ব ফিরে পেতে আবেদন করে চসিক। গত ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় মেয়রকে চেয়ারম্যান করে বোর্ড অব ট্রাস্টি পুনর্গঠন করলে কর্তৃত্ব ফিরে পায় সিটি করপোরেশন।
এছাড়া ৪৫০ কোটি টাকা দেনা কাঁধে নিয়ে দায়িত্ব নিয়েছিলেন মেয়র। গত একবছরে তিনি ৭১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা দেনা শোধ করেছেন। অস্থায়ী ৬১৭ জন কর্মীকে স্থায়ী করা হয়েছে, বিভিন্ন পদে ১২৩ জনকে স্বচ্ছভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, ওয়ার্ড পর্যায়ে ৮টি মাঠ সংস্কার করে প্রশংসিত হয়েছেন। সর্বশেষ সিটি গভর্ন্যান্সের মূল্যায়নে দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে প্রথম হয়েছে চসিক। যেখানে সাংগঠনিক কার্যক্রম, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সম্পৃক্ততার উপর মূল্যায়ন করা হয়।
নগরীতে প্রতিদিন ৩ হাজার টন বর্জ্য উৎপাদন হয় এবং দৈনন্দিন সংগ্রহ করা হয় ২ হাজার ২০০ টন। বাকি বজ্য সীমাবদ্ধতার কারণে সংগ্রহ করা যাচ্ছেনা। চসিক নাগরিকদের সেবা হাতের নাগালে নিয়ে আসার জন্য ২০২৫ সালে “আমার চট্টগ্রাম অ্যাপ” নামে একটি অ্যাপ চালু করে, এর মাধ্যমে নাগরিকরা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ ১০ টি সেবা নিতে পারবেন। নাগরিকরা তাদের অভিযোগগুলো ও জানাতে পারবেন। চসিক বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনের জন্য কোরিয়ান সংস্থার সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়ছে। এছাড়াও, বর্জ্য থেকে গ্রিন ডিজেল উৎপাদনের জন্য বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কথা চলছে। নগরীতে ব্রেস্ট ক্যানসার ও লিভার ক্যানসার রোধে নানা ধরনের সচেতনতা ক্যাম্পেইন করা হয়েছে। স্কুল-কলেজ ও অন্যান্য শিশুদের কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, মায়েদের জন্য ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপন করা হচ্ছে।