1. চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফারজানা মুক্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
  2. স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-২ শাখা থেকে গত ৯ জুলাই ২০২৬ জারি করা এক স্মারকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
  3. জানা গেছে, গত ২৫ জুন চট্টগ্রামবাসীর পক্ষে মেহেদী চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী ও ফারজানা মুক্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থ পাচার এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে তাঁদের চসিকের বাইরে বদলি এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
  4. অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, ফাইল ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করে ওই দম্পতি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়াসহ বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
  5. লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালে স্থায়ী কর্মকর্তা না হয়েও ফারজানা মুক্তাকে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পরিচ্ছন্ন কর্মী নিবাস নির্মাণ’ প্রকল্পের পরিচালক করা হয়। এছাড়া মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরীর পদোন্নতি, বদলি, পুনরায় চসিকে পদায়ন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
  6. অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রশাসনিক কারণে শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরীকে বরিশাল সিটি করপোরেশনে বদলি করা হলেও পরে প্রকৌশলী সংকটের কারণ দেখিয়ে তাঁকে পুনরায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
  7. এছাড়া পাঁচলাইশে ফ্ল্যাট, বোয়ালখালীতে জমি, বিভিন্ন স্থানে প্লট ও ফ্ল্যাট, ব্যয়বহুল ব্যক্তিগত সম্পদ এবং বিদেশে বিনিয়োগের বিষয়েও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
  8. তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী ও ফারজানা মুক্তার সঙ্গে সকালের চট্টগ্রাম থেকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।