সম্প্রতি ইসরায়েল,আমেরিকা ও ইরানের সংঘটিত যুদ্ধে ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের আশা- আকাঙ্খা ও পরিকল্পনা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়।আমেরিকার দম্ভ চুর্ণ হয়,পারস্য জাতি কখনো মাথানত করে না এবং তারা অপ্রতিরোধ্য এটা আবারো প্রমাণিত হয় ।এ যুূ্দ্ধে খামেনির ইরান বিশ্বে নতুন পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভাব এবং অন্যতম শক্তিধর অপরাজেয় রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলো।একই সাথে ইরানের পারমানবিক গবেষণার দ্বার উন্মোচিত হলো।ভবিষ্যতে ইরানের সাথে চোখ রাঙ্গিয়ে কথা বলার সাহস বন্ধ হয়ে গেল।দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থেকেও পারস্য জাতির কঠোর পরিশ্রম,অদম্য সাহস,সহনশীলতা,আত্মবিশ্বাস,
আত্মত্যাগ,মহান আল্লাহতালার উপর পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থায় তাঁদেরকে সাফল্যের চুড়ায় পৌঁছে দিয়েছে।
ইরানের তিন পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছিলেন।তিনি চেয়েছিলেন লিবিয়া, ইরাক ও সিরিয়ার মতো ইরানকেও ধ্বংস করে দিবেন। ইরান তা উপহাসের সাথে প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা হুমকি দেয়।ইরান মধ্যপ্রাচ্যে কাতার, কুয়েত, ইরাক, সিরিয়ার মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালায় যা ছিল আমেরিকার জন্য অকল্পনীয় ও বিস্ময়কর।ট্রাম্প অবস্থা ও পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরে পাল্টা প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা শুরু করেন। মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে জানা যায়,আমেরিকা ও ইসরায়েল যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে প্রথমে ইরানের নিকট পাঠিয়েছিল। এতে ইরান,ইসরায়েলকে হামলা বন্ধের শর্তারোপ করলে,ইসরায়েল সম্মত হয়।অবশষে যু্দ্ধ বিরতি কার্যকর হয়।এ যুদ্ধে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মর্যাদা এবং আমেরিকা ও ইসরায়েলের শ্রেষ্ঠত্ব ক্ষুন্ন হয়।
যুদ্ধের ফলাফল:-
১।ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করার স্বপ্ন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর পূরণ হয়নি;
২। ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন সম্ভব হয়নি এবং সহসা হওয়ার কোনো সম্ভাবনাও নেই। বরং বর্তমান শাসক গোষ্ঠীর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে;
৩। যুদ্ধে ইসরায়েলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির জন্য অর্থনীতিতে ধস নামবে।যুদ্ধবাজ নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা হ্রাস পেতে পারে। ইসরায়েলিরা তাঁর পতনের আন্দোলনে জোর দিতে পারে;
৪। রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের দুর্বলতা সুস্পষ্ট এবং পরাশক্তির দম্ভ চুর্ণ হয়ে গেল। মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহের কাছে ইসরায়েলের গুরুত্ব কমে যেতে পারে;
৫। ইরান তার অস্ত্র সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক কর্মসূচির যৌক্তিকতা বিশ্বের সামনে যৌক্তিকভাবে উপস্থাপন করতে সমর্থ হয়েছে। আগামীতে এ কর্মসূচি চলমান রাখার প্রতিবন্ধকতা দূর হলো;
৬। ভবিষ্যতে ইসরায়েল কখনো ইরানের সাথে দ্বন্ধে জড়ানোর সাহস দেখাবে না।
৭।বিশ্বে এক নতুন পরাশক্তির আবির্ভাব-ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান।
(লেখক একজন প্রাবন্ধিক)