যদিও বন্ধু দিবস, বাবা দিবস কিংবা মা দিবস বলে আলাদা কোনো দিবসের প্রয়োজন পড়ে না। তবে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে না বললে আমি হয়ে যাবো ব্যাকডেইটেড! তাই সবার সাথে আমিও বলছি আজ ‘বন্ধু দিবস’।

বন্ধুত্ব হোক চির অমলিন। একজন ভালো বন্ধু হওয়া মানেই একজন ভালো মানুষ হওয়া। কথায় আছে, অ্যা ফ্রেন্ড ইন নিড ইজ অ্যা ফ্রেন্ড ইনডিড। ‘বিপদের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু।’

আত্মার কাছাকাছি যে বসবাস করে, সে আত্মার আত্মীয়, বন্ধু কিংবা স্বজন। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর সম্পর্কের নাম হলো ‘বন্ধুত্ব’। অ্যারিস্টটলের এই চিরসত্য বাক্যটির কথা মনে করিয়ে দিতেই যেন প্রতিবছর ঘুরে আসে ’বন্ধু দিবস’। যদিও বন্ধুকে প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে আমরা অনুভব করি। ‘বন্ধু’ শব্দটা খুব ছোট হলেও এর গভীরতা বা ব্যাপ্তি কতোটা বড়, তা তখনই বোঝা যায় যখন একজন সত্যিকারের বন্ধু পাশে থাকে। জীব‌নে এমন কিছু সময় আ‌সে যখন নি‌জেকে বড্ড অসহায় ম‌নে হয়, আর তখন নিঃস্বার্থভা‌বে যে পা‌শে এসে দাঁড়ায় সে-ই প্রকৃত বন্ধু। তাই বন্ধুত্বের গভীরতা আকাশের মতো বিশাল। 

বন্ধুত্ব হলো জীবনের এক অনন্য সৌন্দর্য, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও হৃদয়ের গভীরে গড়ে ওঠা সম্পর্কের নাম। একজন প্রকৃত বন্ধু পাশে এসে দাঁড়ালে মনের সব কষ্ট হালকা হয়ে যায়, পথচলা সহজ এবং সুন্দর হয়ে ওঠে।

বন্ধুত্ব শুধু একসাথে সময় কাটানো নয়; বরং এটি এমন একটি সম্পর্ক যেখানে আছে বিশ্বাস, সহানুভূতি, ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ। দুঃখে যে কাঁধ বাড়িয়ে দেয়, বিপদে যে এসে হাত ধরে আর সফলতায় যে খুশিতে উদ্বেলিত হয়— সেজনই তো পরম বন্ধু, প্রকৃত বন্ধু। 

ব্যস্ততা আর স্বার্থপরতার যুগে যেখানে মানুষ স্বার্থ ছাড়া এক পাও এগোয় না, সেখানে একজন নিঃস্বার্থ বন্ধু পাওয়া মানে একটি অমূল্য রত্ন পাওয়া। প্রকৃত বন্ধুত্ব কেবল সুখের নয়, বরং দুঃখ-বেদনা ও চড়াই-উতৎরাই মাড়িয়ে পরিপূর্ণ সমর্থন পাওয়া।

বন্ধুত্বের কোনো সীমারেখা নেই। শৈশব থেকে শুরু করে জীবনের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত বন্ধুত্ব সাহস, আশ্রয় ও আনন্দ দিয়ে যায়। আধুনিক যুগের কৃত্রিম বন্ধুত্বের ভিড়ে আজ সত্যিকারের বন্ধুত্ব হারিয়ে গেছে।

বন্ধুত্ব এমন এক আশীর্বাদ, যা অর্থ-সম্পদ দিয়ে কেনা যায় না। বিপদে-আপদে একজন সত্যিকারের বন্ধুই যথেষ্ট পাশে দাঁড়ানোর জন্য। তাই বন্ধুকে অবহেলা নয়। বরং ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর সময় দিয়ে আরো কাছে টেনে নিতে হবে। কারণ জীবনের শেষ প্রান্তে আমরা যাদের কথা সবচেয়ে বেশি মনে করি— তারা হলো এই মানুষগুলো! 

সত্যিকারের বন্ধু যে কেউ হতে পারে। যেমন : মা-বাবা, ভাই-বোন, স্বামী-সন্তান এবং কাছের-দূরের হৃদয়বান যেকোনো মানুষ। চাইলেই ভালো বন্ধু পাওয়া যায় না। আবার চাইলে ভালো বন্ধুও হওয়া যায় না। এর জন্য দরকার ভালো একটি নির্ভেজাল মনের। আর সেই মনটা হতে হবে শুভ্র ও পবিত্র। একজন ভালো বন্ধুই বন্ধুর সুখে সুখী হয়, বন্ধুর দুঃখে দুঃখী হয়। বন্ধুত্বে থাকবে দারুণ বোঝাপড়া।

দার্শনিক রালফ ওয়ান্দ বলেন, ‘একজন ভালো বন্ধু পেতে হলে নিজেকেও ভালো বন্ধু হতে হয়।’ এটি এমন এক প্রক্রিয়া যার মূলে থাকে শেয়ারিং, কেয়ারিং এবং দায়িত্ববোধ। যেখানে মনের কথা অকপটে খুলে বলা যায়। সবাই ভালো বন্ধু হয় না, সবাই ভালো বন্ধু হতে পারে না। এই যান্ত্রিকতার যুগে আসল বন্ধুকে খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন। আজকাল সুযোগ সন্ধানী বন্ধুর অভাব নেই। অহংকারী ও স্বার্থবাদীদের সাথে বন্ধুত্ব নয়। সুযোগ সন্ধানী বন্ধু স্বার্থ উদ্ধার করেই কেটে পড়ে। তাই সবার সতর্ক থাকা উচিত।

আঁধার ভেদ ক‌রে সূর্য‌কিরণ প্রতিটি জীব‌নের দুয়া‌রে পৌ‌ঁছে যাক। যা‌পিত জীব‌নের সব গ্লানি ভু‌লে এ‌সো নি‌জে‌কে ছ‌ড়ি‌য়ে দেই— সম্মান, বিনয় আর শ্রদ্ধা প্রকাশের জায়গায়। সেইসব বন্ধুর প্র‌তি রইলো আম‌ার শ্রদ্ধা, বিনয় আর সম্মান। অফুরান ভালোবাসা আর নিরন্তর শুভকামনা।

লেখক : কবি ও কলামিস্ট