টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণের পর  ( ৯ জুলাই) বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও চট্টগ্রামে জনদুর্ভোগ কমেনি। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে। নিচু এলাকায় সড়ক, অলিগলি, ভবনের নিচতলা, দোকানপাট এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের নিচতলায় পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।

সবচেয়ে বেশী কষ্ট ভোগ করছে উত্তর চট্টগ্রামের মানুষ, বড়দিঘীর পাড় জলাবদ্ধতায় ঘন্টার পর ঘন্টা মানুষ ও যানবাহন আটকে গেছে।বাস,সিএনজি, কার চলাচল দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে।ভ্যান গাড়ী করে ২০ টাকা প্রতিজন পাড় করানো হচ্ছে, এতে মানুষের সময় ও অর্থ দুটোরি অপচয় হচ্ছে। বড়দিঘীর পাড় উত্তর চট্টগ্রামের মানুষের গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে। ভুক্তভোগী পথচারী সকালের চট্টগ্রামকে বিষাদ নিয়ে বলেন,আমাদের হাটহাজারীতে একজন প্রতিমন্ত্রী ও একজন মহিলা সংসদ সদস্য থাকার পরেও বহুদিনের পুরনো সমস্যা এখনো সমাধান হচ্ছে না,সমস্যায় জর্জরিত জনসাধারণ  দ্রুত  সমাধানের আশা করছেন।

চকবাজার, কাতালগঞ্জ, আগ্রাবাদ, হালিশহর, চান্দগাঁও, মোহরা, কুয়াইশ ও অক্সিজেনসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা অব্যাহত রয়েছে। অনেক বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাঘরের চুলা পর্যন্ত তলিয়ে গেছে। ফলে অনেক পরিবার দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

নগরের বাইরে হাটহাজারী, রাউজান, সাতকানিয়া, সীতাকুণ্ড, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালীসহ বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও মহাসড়ক এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে। ষোলশহরে আটকে পড়া কক্সবাজারগামী একটি ট্রেনের যাত্রাও বাতিল করা হয়েছে। সন্দ্বীপের সঙ্গে যাতায়াতও অনেকটা ব্যাহত হয়েছে।

পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা ও শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করায় অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৩৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার সর্বোচ্চ ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়, যা গত ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০০৭ সালের ১১ জুন ৪০৮ মিলিমিটার এবং ১৯৮৩ সালের ৪ আগস্ট ৫১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ছিল।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানান, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রয়েছে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি থাকায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।