চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ছোট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বৃষ্টির পানিতে মাছ ধরতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হয়েছেন নুরুল আজিম ওরফে আজম (৪৫) নামে এক দর্জি। পরিবারের অভিযোগ, মেয়ের সামনেই তাকে প্রথমে গুলি করে পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে উপজেলার মেখল ইউনিয়নের পশ্চিম মেখল খলিফাপাড়া এলাকার একটি জমিতে এ ঘটনা ঘটে। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত আজম পশ্চিম মেখল খলিফাপাড়া এলাকার মৃত মো. ইসলামের ছেলে। তিনি হাটহাজারী পৌরসভার মাদ্রাসার সামনে জেলা পরিষদ মার্কেটে ‘সেলিম টেইলার’ নামে একটি দর্জির দোকান পরিচালনা করতেন। স্ত্রী, দুই মেয়ে, এক ছেলে ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে তার সংসার ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সকালে বাড়ির পাশের একটি জমিতে ছোট মেয়েকে নিয়ে মাছ ধরতে যান আজম। সেখানে ওত পেতে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। পরিবারের দাবি, এ সময় স্থানীয় দিদারুল আলম ও তার সহযোগীরা প্রথমে আজমের পায়ে গুলি করে, পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে তার ছোট মেয়ে।
নিহতের স্ত্রী ও বড় মেয়ের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে। তারা দাবি করেন, আজমের চাচাতো ভাই মো. আলী ও তার ছেলে স্থানীয় সন্ত্রাসী দিদারুল আলমকে অর্থ দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
তাদের ভাষ্য, এর আগেও কয়েক দফা আজমের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত রমজান ও ঈদের পর দুই দফা তাকে মারধর করা হয়। সে ঘটনায় থানায় একটি মামলাও করা হয়েছিল, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন তারা।
খবর পেয়ে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান সকালের চট্টগ্রামকে বলেন, নিহতের পায়ে গুলির চিহ্ন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক তথ্য ও অভিযোগ অনুযায়ী স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ডাকাত দিদারুল আলমের নেতৃত্বে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থানায় আটটি মামলা রয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চলছে।